লাকসাম রেলওয়ে থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পূর্বাঞ্চল রেলের কুমিল্লা-লাকসাম এলাকার ১৭২ কিলোমিটার রেলপথে অনুমোদনহীন লেভেল ক্রসিং রয়েছে ১১৬টি। গত ৮ বছরে এসব অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৪ শতাধিক মানুষের। সম্প্রতি বুড়িচংয়ের কালিকাপুরে এলজিইডির সড়কের লেভেল ক্রসিংয়ে অটোরিকশায় ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হয় ৭ জনের।
এলাকার মানুষের জোর দাবি সত্ত্বেও লেভেল ক্রসিংগুলোর নিরাপত্তায় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। রেল ও সড়ক কর্তৃপক্ষের একে অপরকে দায় দেওয়ার মাঝেই দুর্ঘটনায় ঝরছে প্রাণ।
এক ভুক্তভোগী এলাকাবাসী বলেন, প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এখানে যদি গেট দেওয়া হয় তাহলে এলাকাবাসী উপকৃত হবে।
পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে ডিআরএম মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘এ ধরনের দুর্ঘটনা অনুমতি না নিয়ে যত্রতত্র রাস্তা করার জন্য হচ্ছে। আমরা এটাও বলেছি যে, যদি রাস্তা করতে হয় তাহলে ওভারপাস, আন্ডারপাস চাইলে আমরা সেটা করে দেব।’
এলজিইডি কর্মকর্তারা দ্রুত সময়ে জটিলতা নিরসনের কথা বললেও এ পর্যন্ত কোনো সমাধান আসেনি।
কুমিল্লা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম মজুমদার বলেন, আমরা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এসওসি নিয়ে সড়কগুলো পাকা করে থাকি। রেলক্রসিংয়ে গেটম্যান রাখা সেটি আমার মনে রেল কর্তৃপক্ষকেই দায়দায়িত্ব নেওয়া উচিত।’
কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, ‘গ্রামীণ রাস্তা যেহেতু, তাদের স্পিডটা যাতে ডাউন হয় এ জন্য এ ধরনের রাস্তাতে স্পিডবেকার বাড়ানোর চেষ্টা করব। গেটম্যান ও গেট দেওয়ার জন্য আমরা প্রাথমিকভাবে রেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছি।’
ঢাকা-চট্টগ্রাম ডাবল লাইন রেলপথে বেড়েছে ট্রেনের গতি। পাশাপাশি, জনবহুল এলাকায় নতুন সড়ক নির্মাণ করায় বেড়েছে লেভেল ক্রসিংয়ে যানবাহনের সংখ্যা। এসব কারণে অনিরাপদ রেলগেটগুলোতে বাড়ছে দুর্ঘটনা।