কুমিল্লায় অরক্ষিত রেল ক্রসিংয়ে ৮ বছরে মৃত্যু ৪০০

কুমিল্লা-আখাউড়া এলাকায় শতাধিক অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং। ছবি: ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনকুমিল্লা-আখাউড়া এলাকায় শতাধিক অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ে গত ৮ বছরে মৃত্যু হয়েছে চারশ মানুষের। জনবসতি বাড়ায় রেললাইনের ওপর দিয়ে নতুন সড়ক নির্মাণ হলেও সেসব লেভেল ক্রসিংয়ে নেই গেট বা গেটম্যান। এ কারণে ট্রেনের সঙ্গে যানবাহনের সংঘর্ষে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি। দ্রুত এসব লেভেল ক্রসিং সুরক্ষিত করার দাবি এলাকাবাসীর। 

লাকসাম রেলওয়ে থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পূর্বাঞ্চল রেলের কুমিল্লা-লাকসাম এলাকার ১৭২ কিলোমিটার রেলপথে অনুমোদনহীন লেভেল ক্রসিং রয়েছে ১১৬টি। গত ৮ বছরে এসব অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৪ শতাধিক মানুষের। সম্প্রতি বুড়িচংয়ের কালিকাপুরে এলজিইডির সড়কের লেভেল ক্রসিংয়ে অটোরিকশায় ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হয় ৭ জনের। 

এলাকার মানুষের জোর দাবি সত্ত্বেও লেভেল ক্রসিংগুলোর নিরাপত্তায় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। রেল ও সড়ক কর্তৃপক্ষের একে অপরকে দায় দেওয়ার মাঝেই দুর্ঘটনায় ঝরছে প্রাণ।

এক ভুক্তভোগী এলাকাবাসী বলেন, প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এখানে যদি গেট দেওয়া হয় তাহলে এলাকাবাসী উপকৃত হবে। 

ঝুকি নিয়ে রেল ক্রসিংয়ে চলাচল করছে যানবাহন। ছবি: ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনরেল কর্তৃপক্ষ বলছে, লাইনের ওপর দিয়ে এসব সড়ক নির্মাণ ও লেভেল ক্রসিং অনুমোদনহীন। ফলে গেট নির্মাণ এবং গেটম্যান নিয়োগে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে ডিআরএম মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘এ ধরনের দুর্ঘটনা অনুমতি না নিয়ে যত্রতত্র রাস্তা করার জন্য হচ্ছে। আমরা এটাও বলেছি যে, যদি রাস্তা করতে হয় তাহলে ওভারপাস, আন্ডারপাস চাইলে আমরা সেটা করে দেব।’  

এলজিইডি কর্মকর্তারা দ্রুত সময়ে জটিলতা নিরসনের কথা বললেও এ পর্যন্ত কোনো সমাধান আসেনি।

কুমিল্লা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম মজুমদার বলেন, আমরা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এসওসি নিয়ে সড়কগুলো পাকা করে থাকি। রেলক্রসিংয়ে গেটম্যান রাখা সেটি আমার মনে রেল কর্তৃপক্ষকেই দায়দায়িত্ব নেওয়া উচিত।’

অবৈধ রেল ক্রসিংয়ে গত ৮ বছরে অন্তত ৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুর্ঘটনার দৃশ্য এটি। ছবি: ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনদুর্ঘটনা ও প্রাণহানি এড়াতে লাল-ফিতার জটিলতা কাটিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে লেভেল ক্রসিংগুলোতে গেট নির্মাণ এবং গেটম্যান নিয়োগের সুপারিশ করেছে জেলা প্রশাসন। 

কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, ‘গ্রামীণ রাস্তা যেহেতু, তাদের স্পিডটা যাতে ডাউন হয় এ জন্য এ ধরনের রাস্তাতে স্পিডবেকার বাড়ানোর চেষ্টা করব। গেটম্যান ও গেট দেওয়ার জন্য আমরা প্রাথমিকভাবে রেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছি।’ 

ঢাকা-চট্টগ্রাম ডাবল লাইন রেলপথে বেড়েছে ট্রেনের গতি। পাশাপাশি, জনবহুল এলাকায় নতুন সড়ক নির্মাণ করায় বেড়েছে লেভেল ক্রসিংয়ে যানবাহনের সংখ্যা। এসব কারণে অনিরাপদ রেলগেটগুলোতে বাড়ছে  দুর্ঘটনা।