মৃত্যুর ১১ বছর পর কবর থেকে শিবিরকর্মীর দেহাবশেষ উত্তোলন

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সংঘর্ষে নিহতের ১১ বছর পর ছাত্র শিবিরের এক কর্মীর দেহাবশেষ কবর থেকে তোলা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাবেল উদ্দিনের উপস্থিতিতে পারিবারিক কবরস্থান থেকে মতিউর রহমান সজীব (১৭) নামের ওই কিশোরের দেহাবশেষ উত্তোলন করা হয়।

মতিউর রহমান সজীব জেলার বসুরহাট পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রয়াত আব্দুল রহমানের ছেলে এবং স্থানীয় একটি মাদরাসা থেকে দাখিল পরীক্ষার্থী ছিলেন। তার দেহাবশেষ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে কবর থেকে সজীবের মরদেহ উত্তোলন করা হয়। এ সময় কবরে বুলেট সাদৃশ্য একটি বস্তু পাওয়া যায়। পরীক্ষার পর বলা যাবে এটি বুলেট কিনা। এ সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মঈনুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।’

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে ১৪ ডিসেম্বর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ সামনে জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সেখানে গুলিতে নিহত ৭ জনের একজন শিবিরকর্মী সজীব।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা জামায়েতের আমির অধ্যাপক বেলায়েত হোসেন অভিযোগ করেন, জামায়াতের শান্তিপূর্ণ মিছিলে গুলি করে ৭ জন নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার ১৩ বছর পর গত ২৬ সেপ্টেম্বর নিহত মতিউর রহমান সজীবের পরিবারের পক্ষ থেকে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুল কাদের মির্জাসহ ১১২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলার আবেদন করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে আবেদনটি কোম্পানীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা রেকর্ড করা হয়।

মামলায় অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদল, সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নুরুজ্জামান, কোম্পানীগঞ্জ থানার সাবেক পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শফিকুল ইসলাম, সাবেক উপ–পরিদর্শক সুধীর রঞ্জন বড়ুয়া, আবুল কালাম আজাদ, শিশির কুমার বিশ্বাস ও উক্যসিং মারমা।