চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে মালবাহী জাহাজে হত্যার শিকার ৭ জনের মধ্যে একজন জাহাজের মাস্টার গোলাম কিবরিয়া। নিহতদের মধ্যে গোলাম কিবরিয়ার ভাগনে শেখ সবুজও রয়েছে। একই পরিবারের দুজনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ স্বজনেরা।
জাহাজের মাস্টার গোলাম কিবরিয়ার বাড়ি ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানায়। নতুন বছরের ৩ জানুয়ারি বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। ১০ জানুয়ারি ছোট মেয়ের বিয়ে। কিন্তু নির্মম হত্যার শিকার হলেন তিনি। মেয়ের বিয়ে দেখে যাওয়া হলো না তাঁর।
গতকাল সোমবার দুপুরে মেঘনা নদীতে মালবাহী জাহাজ থেকে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। এদিন রাতে খবর পেয়ে চাঁদপুর সদর জেনারেল হাসপাতালে আসেন নিহতদের স্বজনেরা।
হাসপাতালে কথা হয় শেখ সবুজের ভাই ফারুক হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘নিহত সাতজনের মধ্যে মামা গোলাম কিবরিয়া ও আমার ভাই শেখ সবুজ আছে। মামা ৩০ বছর ধরে জাহাজের চাকরি করলেও ভাই সবুজ মাত্র দেড় আস আগে যোগ দেয়। মেয়ের বিয়ে নিয়ে রোববার রাতে মামার সাথে শেষ কথা হয়েছিল। জানুয়ারিতে মেয়ের বিয়ের জন্য বাড়ি আসার কথা ছিল মামার। ’
হাসপাতালে কথা হয় আরেক স্বজন হুমায়ন মুন্সীর সাথে। তাঁর ছোট ভাই সুকানী আমিনুর মুন্সী। ৭ বছর ধরে আমিনুর মুন্সী জাহাজ কাজ করছেন। ভাইয়ের এমন হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি। তাঁর বাড়ি নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানার পাঙ্খারচর এলাকায়। একই জেলার আরেক বাসিন্দা সালাউদ্দিন মিয়া (৪০)। তিনি লোহাগড়া থানার এগারনলি গ্রামের বাসিন্দা। সালাউদ্দিন জাহাজের ইঞ্জিন চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নিহত আরেকজনের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। তবে তিনি বাবুর্চির কাজ করতেন বলে জানা গেছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এ ঘটনায় আহত জুয়েল। আহত জুয়েলের অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তিনি সুস্থ হলেই ঘটনার কারণ জানা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, ইউরিয়া সারবোঝাই এমভি আল বাখেরা জাহাজটি চট্টগ্রাম থেকে সিরাজগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে এসেছিল। গতকাল সোমবার দুপুরে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার ঈশানবালা এলাকায় মেঘনা নদীতে থাকা জাহাজটি থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় আটজনকে উদ্ধার করে পুলিশ। এদের মধ্যে ৫ জন ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন আর দুজন হাসপাতালে মারা যান। আর একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
চাঁদপুরে নৌ পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ মুশফিকুর রহমান জানান, চাঁদপুর নৌ সীমানায় আসলে জাহাজ ঢুকে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে আটজনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে হামলাকারীরা। প্রাথমিকভাবে এটি ডাকাত দলের কাজ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে পারিবারিক বা ব্যবসায়িক কোনো শত্রুতাও থাকতে পারে। ঘটনাটি কখন এবং কোথায় ঘটেছে তা অনুমান করা যাচ্ছে না। প্রত্যেকটি মরদেহ ভিন্ন ভিন্ন রুমে ছিল। প্রকৃত ঘটনা জানতে তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে জাহাজ শ্রমিক ফেডারেশনের নেতা ইঞ্জিনিয়ার কবির হোসেন জানান, এটি ডাকাতির ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। নৌপথের নিরাপত্তা দাবি করেন তিনি।