সোনা চোরাচালানের অভিযোগে চট্টগ্রামে উড়োজাহাজ জব্দ

সোনা চোরাচালানের অভিযোগে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজ জব্দ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা উড়োজাহাজটি জব্দ করেন।

এর আগে সকালে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসে বোয়িং-৭৭৭-৩ই৯ (ইআর) মডেলের উড়োজাহাজটি। এরপরই একটি আসনের নিচ থেকে ২ কেজি ৩২০ গ্রাম ওজনের ২০টি সোনার বার জব্দ করে কাস্টমস গোয়েন্দারা। এ ঘটনায় ওই আসনের যাত্রী আতিয়া সামিয়াকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বাড়ি রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানা এলাকায়। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

শুল্ক গোয়েন্দার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোনার দাম প্রায় দুই কোটি ৬০ লাখ টাকা। আর উড়োজাহাজটির মূল্য আনুমানিক প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। সবমিলে আটককৃত ১ হাজার ২ কোটি ৬০ লাখ টাকার বিষয়ে ন্যায় নির্ণয়ের জন্য চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার বরাবর চিঠি দিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. মিনহাজ উদ্দিন জানান, গ্রেপ্তার আতিয়া সামিয়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে ‘ওশেন গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ড জুয়েলারি’ নামের একটি দোকানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করেন। দেশেও তিনি অনলাইনে সোনা বিক্রি করেন। 

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বিন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ আব্দুল্লাহ আলমগীর জানান, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তদন্তের জন্য উড়োজাহাজটি জব্দ করেছে। এটির কাগজপত্র জব্দ থাকবে। তবে যাত্রী পরিবহন করতে পারবে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সোনার বারগুলো উড়োজাহাজের আসনের নিচে বিশেষ কায়দায় প্লাস্টিকের টেপ দিয়ে মোড়ানো ছিল। উড়োজাহাজটির কারও সহযোগিতা ছাড়া কোনো যাত্রীর পক্ষে এভাবে সোনার বার লুকানোর কথা নয়।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ জব্দের ঘটনা এটিই প্রথম। এক দশক আগে ঢাকায় চোরাচালানের সোনা বহন করায় দুটি উড়োজাহাজ জব্দ করার নজির রয়েছে।