ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার সময় জাতীয় নাগরিক কমিটির দুই সদস্যকে ‘ছাত্রলীগ’ আখ্যা দিয়ে বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার ভিডিওচিত্র ধারণ করায় এক সাংবাদিককে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিনগত রাত সোয়া ১২টার দিকে নাসিরনগর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় এসব ঘটনা হয়।
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করতে গিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের হাতাহাতিতে দুজন আহত হয়েছে।
নাসিরনগরের ঘটনায় থানা পুলিশ আহত সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়, সেখানেই ভর্তি রয়েছেন তিনি। আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ দৈনিক কালবেলা ও এনটিভি অনলাইনের নাসিরনগর উপজেলা প্রতিনিধি।
আহত সাংবাদিক বলেন, ‘নাসিরনগর প্রেসক্লাবের সঙ্গে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়েছিলাম। সেখানে জাতীয় নাগরিক কমিটির দুজনকে ছাত্রলীগ আখ্যা দিয়ে পেটানো হচ্ছিল। এর ফুটেজ নেওয়ার সময় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বশির উদ্দিন তুহিন দৌড়ে এসে আমার মোবাইলফোন কেড়ে নেন এবং হামলা করেন। পরে বশিরের ভাতিজাসহ দলীয় অনুসারীরা রড, চাপাতি ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমাকে আঘাত করে।’
এদিকে, জাতীয় নাগরিক কমিটির নাসিরনগর উপজেলা শাখার সদস্য আসাদুজ্জামান খোকন এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বশির উদ্দিন তুহিন ও তাঁর কিছু লোক সাংবাদিক মাহমুদকে কিল–ঘুষিসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এসময় পুলিশ নাগরিক কমিটির দুজনকে হেফাজতে নেয়।
আসাদুজ্জামান খোকন দাবি করেন, তাদের সংগঠনের ২০ থেকে ২৫ জন সদস্য শহীদ মিনারে ফুল দিতে গেলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ হান্নান ‘আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগকে ধর’ বলে ওঠেন। তখন তারা দিগবিদিক দৌড়াতে শুরু করলে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বশির উদ্দিন তুহিনের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
তবে নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ হান্নান তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে আকাশ–কুসুম কল্পনা আখ্যা দিয়েছেন। অভিযোগ অস্বীকার করে ইনডিপেনডেন্টকে বিএনপি সভাপতি বলেন, ‘ সে (খোকন) ফ্যাসিস্টদের দোসর। মুখে মাস্ক পরে ও ব্যানার বদল করে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের লোকজন শহীদ মিনারে এলে আইন–শৃঙ্খলা বাহিনী ও বৈষম্যবিরোধীরা প্রতিহত করেছে। আমি শহীদ মিনারে ছিলাম। সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা হয়েছে শহীদ মিনারের সীমানা প্রাচীরের বাইরে।’
দলের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ প্রসঙ্গে এম এ হান্নান বলেন, ‘এ বিষয়ে বশিরই ভালো বলতে পারবেন। এটি ন্যাক্কারজনক ও অপ্রত্যাশিত। এমন ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নাসিরনগর উপজেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বশির উদ্দিন তুহিনের মোবাইলফোন নম্বরে শুক্রবার একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. আবুল বাশার বলেন, ‘মাহমুদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল আলম সাংবাদিক মাহমুদের ওপর হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিজয়নগরে পুস্পস্তবক অর্পণ করতে গিয়ে হাতাহাতি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করতে গিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। এসময় চম্পকনগর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য বিল্লাল মিয়া ও জীবন মিয়া আহত হয়। উপজেলা বিএনপি নেতা মহসীন আহমেদ ভূইয়া অভিযোগ করেন, দলের প্রতিপক্ষের লোকজন এ হামলা করেছে।