আশ্রয়কেন্দ্রের ঘর বিক্রিতে বাধা, কৃষক দল নেতাকে ‘পেটালেন’ বিএনপি নেতা

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে আশ্রয়কেন্দ্রের ঘর বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে কৃষক দলের এক নেতাকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার রাতে উপজেলার চর জুবলি ইউনিয়নের চর মহিউদ্দিন বাজারের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

আহত আব্দুল করিম (৫০) চর জুবলি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক দলের সভাপতি। তাঁকে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মাহবুবুল হক চৌধুরী বিএনপির একই ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি। 

আব্দুল করিম অভিযোগ করে বলেন, ‘চর জুবলি ইউনিয়নে গৃহহীনদের জন্য সরকারিভাবে আশ্রয়কেন্দ্রের প্রায় ৮০০ ঘর নির্মাণ করা হয়। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর সেখান থেকে ৪১টি ঘর নামে, বেনামে বিক্রি করে দেন বিএনপি নেতা মাহবুবুল হক চৌধুরী। একেকটি ঘর ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা হারে বিক্রি করেন তিনি। ঘরগুলো বুঝিয়ে দেওয়ার সময় ঘটনাটি জানাজানি হয়। এ ঘটনায় আমি প্রতিবাদ করি এবং বিষয়টি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহোদয়কে অবহিত করি।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘এর জেরে মাহবুবুল হক ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা শনিবার রাত ৮টার দিকে স্থানীয় চরমহিউদ্দিন বাজারে পাশে আমার পথ আটকায়। আমি কেন ঘর বিক্রির বিষয়ে উচ্চবাচ্য করছি এবং কেন বিষয়টি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহোদয়কে জানিয়েছি, আমার কাছে এর জবাব চান। জবাবে আমি এসব করলে আমাদের দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে বলার সাথে সাথে মাহবুবুল হক আমার গলা টিপে ধরেন এবং আমাকে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। একপর্যায়ে মাহবুবুল হকের সাথে থাকা ৭/৮ জন আমাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। তারা আমার সঙ্গে থাকা ১ লাখ সাড়ে ৭ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এ সময় আমি প্রাণভয়ে পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নিলে তারা দোকানটি ঘিরে রেখে আমাকে হত্যার হুমকি দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন আমাকে অজ্ঞান অবস্থায় ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।’ 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাহবুবুল হক এ ঘটনা সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে ফোনকল কেটে দেন।  

চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, এ ঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।  

সুবর্ণচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছেনমং রাখাইন বলেন, চর মহিউদ্দিন গ্রামে ভূমিহীনদের জন্য ৮২০টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে ৪০টি ঘর খালি ছিল। খালি ঘরগুলোতে বন্দবস্ত না পাওয়া কিছু লোক ঢুকে পড়ে। খবর পেয়ে ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিকে ঘরগুলো পুনরায় আমাদের দখলে নেওয়া হয়েছে।