পবিত্র রমজান মাসে দীর্ঘ সময় পানাহার থেকে বিরত থাকায় কমে যায় রক্তদাতার সংখ্যা। ফলে বিপাকে পড়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে (চমেক) চিকিৎসাধীন থ্যালাসেমিয়া, ক্যানসারের মতো জটিল রোগ এবং দুর্ঘটনায় আহতেরা। চিকিৎসক ও ইসলামি চিন্তাবিদেরা বলছেন, রোজা রেখে বা ইফতারের পর রক্ত দিতে ধর্মীয় বা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো বাধা নেই।
ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত ১০ বছরের রবিউল ইসলামকে কয়েকদিন পরপরই রক্ত দিতে হয়। শিশুটির বাবা পারভেজ জানান, রমজানে চট্টগ্রাম মেডিকেলে রক্ত নিতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন তাঁরা। রোজায় রক্তদাতা কমে যাওয়ায় সঠিক সময়ে রক্ত পাওয়া যাচ্ছে না।
শুধু রবিউল নয়, দুর্ঘটনায় আহতসহ মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে যাওয়া অন্য রোগীরাও পাচ্ছে না রক্ত। অনেকেই ছুটছেন বিভিন্ন রক্তদান কেন্দ্রে। অবশ্য সেখানেও নেই রক্তদাতাদের ভিড়।
রেড ক্রিসেন্ট ও সন্ধানীর হিসেবে, চট্টগ্রামে বছরে প্রায় এক লাখ ব্যাগ রক্ত লাগে। মাসে প্রায় ১০ হাজার ব্যাগের মধ্যে চমেক ব্লাড ব্যাংক ও রেডক্রিসেন্ট থেকে মেলে সাত থেকে আট হাজার ব্যাগ।
ফাতেমা বেগম রেড ক্রিসেন্টের মেডিকেল অফিসার ও ইনচার্জ ডা. মোহাম্মদ মিছবাহ উদ্দিন জানান, রোজায় রক্তদানে কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই।
ইসলামি চিন্তাবিদর আহলে সুন্নাত ওয়াল জাম’আত বাংলাদেশের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য স উ ম আবদুস সামাদ বলছেন, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও রোজা রেখে রক্তদানে বাধা নেই।
রেডক্রিসেন্ট, সন্ধানী ও চমেক ব্লাড ব্যাংক ছাড়াও বেশকিছু বেসরকারি সংগঠন রক্ত সংগ্রহ করে।