বিয়ের সাত দিনের মাথায় বালিশ চাপা দিয়ে স্বামীকে হত্যা!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় স্বামীকে হত্যার অভিযোগে নববধূকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দিনগত মধ্যরাতে আখাউড়ার মসজিদ পাড়ায় এ হত্যাকাণ্ড হয়।

শনিবার নিহত মেহেদী হাসানের (২৭) মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি পুলিশ স্ত্রী জান্নাত আক্তারকে (১৭) আটক করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন জান্নাত আক্তার।

নিহত মেহেদি হাসানের পৈত্রিক বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায়। প্রায় ২০ বছর ধরে মাকে নিয়ে মসজিদপাড়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন মেহেদী। তার পিতা মৃত জলফু মিয়া। 

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, গত ৯ মে পারিবারিকভাবে মেহেদি হাসানের সঙ্গে মসজিদ পাড়ার আল আমিনের মেয়ে জান্নাত আক্তারের বিয়ে হয়। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে মেহেদী হাসান রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পরে। ভোর রাতে নিহতের স্ত্রী বাড়ির মালিককে ডেকে বলে তার স্বামী অসুস্থ। বাড়ির মালিক ও স্থানীয় লোকজন গিয়ে দেখে মেহেদী হাসান ঘরের মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। তাকে উদ্ধার করে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানিয়েছে, স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কের কারণে স্বামীকে হত্যার ঘটনা হয়।

নিহত মেহেদী হাসানের মা বকুল বেগম বলেন, ‘আট দিন হয়েছে আমার ছেলেরে বিয়ে করিয়েছি। বউয়ের অন্য ছেলের সাথে প্রেম ছিল। সে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই। হত্যাকারীর ফাঁসি চাই।’

নিহতের বড় ভাই আবুল কালাম বলেন, ‘আমার ছোট ভাই একটি ওষুধের দোকানে চাকরি করত। সে খুব শান্ত স্বভাবের ছিল। তার স্ত্রী ৬টি ঘুমের টেবলেট খাইয়ে অচেতন করে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। শুনেছি তার অন্য ছেলের সাথে প্রেম আছে।’

আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছমিউদ্দিন বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জান্নাত আক্তার তার স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। বিয়ের আগে এক ছেলের সাথে জান্নাত আক্তারের প্রেম ছিল। বিয়ের পর থেকে সে তার স্বামীকে মেনে নিতে পারছিল না। গত রাতে স্বামীকে বলে তার ঘুম আসছে না বলে তাকে দিয়ে ঘুমের টেবলেট আনায়। পরে কোকের সাথে ৬টি ঘুমের টেবলেট খাইয়ে অচেতন করে। পরে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে স্বামীকে হত্যা করে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়।’