প্রজনন মৌসুমে কাপ্তাই লেকে তিন মাস মৎস্য আহরণ বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন খাগড়াছড়ির মহালছড়ির তিন হাজার জেলে। প্রতি মাসে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়াধীন ত্রাণ কর্মসূচির (ভিজিএফ) আওতায় ২০ কেজি চাল বরাদ্দ দিলেও তা পর্যাপ্ত নয়। বিকল্প আয়ের উৎস না থাকায় পরিবার নিয়ে বেহাল দশা তাঁদের। বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন।
কাপ্তাই লেকে মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল খাগড়াছড়ির মহালছড়ির প্রায় তিন হাজারের বেশি জেলে পরিবার। ১ মে থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত প্রজনন মৌসুম হওয়ায় লেকে বন্ধ থাকে মাছ শিকার। এ সময় বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় বন্ধ হয়ে যায় তাঁদের আয় রোজগার।
এ সময় জেলেদের পরিবার প্রতি দেওয়া হয় ২০ কেজি চাল। এতে তাদের সংসার চলে না বলে জানান তারা।
স্থানীয় এক জেলে বলেন, ‘আমাদের পরিবারের সদস্য আট থেকে ১৪ জন। সরকার ২০ কেজি চাল দেয়। এটা দিয়ে আমাদের চার থেকে পাঁচ দিন সংসার চলে। মাসের বাকিদিনগুলি আমাদের খেয়ে না খেয়ে থাকতে হয়। অনেক সময় মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা বাড়লেও বাড়ে না বরাদ্দ।’
কর্মহীন জেলেদের সরকারিভাবে রেশনের চাল ৪০ কেজি করার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মৎস্যজীবীরা।
মহালছড়ি মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল খায়ের বলেন, ‘সারা বছর জেলেরা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। বছরে মে থেকে জুলাই তিন মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকে। এই সময়ে জেলেরা খুব কষ্টে থাকে। তাদের জন্য যে বরাদ্দ দেওয়া হয় তা যেন দ্বিগুণ করা হয়।’
জেলেদের জন্য বরাদ্দ চালের পরিমাণ কম বলে মনে করে স্থানীয় মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনও। বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য চিঠি দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণন কেন্দ্রের উপকেন্দ্র প্রধান মো. নাসরুল্লাহ বলেন, ‘জেলেদের পরিবার প্রতি ২০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এটা আমাদের কাছে অপ্রতুল মনে হয়েছে। জেলেদের বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’