সাম্প্রতিক বন্যায় খাগড়াছড়িতে তলিয়ে গেছে এক হাজার ৩১ হেক্টর জমির ফসল। নষ্ট হয়েছে আউশ, আমনের বীজতলা ও গ্রীষ্মকালীন সবজি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাত হাজারের বেশি কৃষক।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, বন্যায় কৃষিতে আর্থিক ক্ষতি ১১ কোটি ২০ লাখ টাকা। ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দ্রুত ব্যবস্থার আশ্বাস কৃষি বিভাগের।
মাত্র কিছুদিন আগে আউশের চারা রোপণ করা হয়েছিল। গ্রীষ্মকালীন নানা ফসলে খাগড়াছড়ির মাঠ ছিলো ভরা। তবে এক সপ্তাহের বন্যায় সবই এখন নষ্ট। দিশেহারা অন্তত সাত হাজার কৃষক।
সম্প্রতি বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে খাগড়াছড়ি সদর, দীঘিনালা, মহালছড়ি ও পানছড়ি উপজেলা। তলিয়ে গেছে জেলার ৮ হাজার ১৩০ হেক্টর আবাদি জমির মধ্যে ১ হাজার ৩১ হেক্টর জমির ফসল। এর মধ্যে পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে ২৩৩ হেক্টর এবং আংশিক নষ্ট হয়েছে ১৯৩ হেক্টর জমির ফসল।
ধানের বীজ ফেলানো হয়েছে, এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন বীজ পাওয়া যাচ্ছে না। সবজিখেত যেগুলো ছিল এগুলোও নষ্ট হয়ে গেছে।
১০ শতক জমিতে ঢেড়স লাগিয়েছিলাম। তারপরে বরবটি, শসা, কলমি শাক, পুঁইশাক লাগিয়েছিলাম। সবগুলো পানির তলে চলে গেছে। এখন বাজারে নিব যে, কোনোকিছুই আমাদের নাই।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, বন্যায় ফসলে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭১০ মেট্রিক টন। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১১ কোটি ২০ লাখ টাকা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করেছি। ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ জেলা প্রশাসনের চেয়ারম্যান মহোদয় এবং আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। যদি প্রণোদনা পাওয়া যায়, আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এগুলো বিতরণের ব্যবস্থা নেব।
সাম্প্রতিক বন্যায় জেলায় মৎস্য খাতে আর্থিক ক্ষতি প্রায় দুই কোটি ২৫১ লাখ টাকা। এছাড়া, প্রাণিসম্পদ খাতে ক্ষতি সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি।



