পাহাড় ধসসহ নানা কারণে কাপ্তাই হ্রদের তলদেশ ভরাট হয়ে অনেক এলাকা নৌ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বছরের প্রায় পাঁচ মাস রাঙামাটি জেলা শহরের সঙ্গে চার উপজেলার একমাত্র যোগাযোগ নৌপথে চলাচল অনেকটা বন্ধ হয়ে যায়। নৌযান চলায় ভোগান্তি ছাড়াও পরিবহন সংকটে নষ্ট হয় এ অঞ্চলের বিভিন্ন কৃষি পণ্য। মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন কেন্দ্রও হুমকির মুখে।
সড়ক না থাকায় রাঙামাটির চার উপজেলা বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, বরকল ও লংগদুর সঙ্গে জেলা সদরের যোগাযোগে নৌপথই ভরসা। তবে গত কয়েক বছরে কাপ্তাই হ্রদের তলদেশ ভরাট হওয়ায় বছরে চার থেকে পাঁচ মাস নৌযান চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, যাতায়াতের দুর্ভোগের পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে উৎপাদিত পণ্য বাজারে নেওয়া এবং জেলা শহর থেকে পণ্য আনতেও চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।
মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. ইশতিয়াক হায়দার বলেন, ১৯৬০ সালে কৃত্রিম এই হ্রদ সৃষ্টির পর মিঠাপানির মৎস্য ভাণ্ডারে পরিণত হয় এই জলাশয়। তবে নাব্য সংকটে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন কেন্দ্রগুলোও হুমকির মুখে।
নৌ পরিবহন, মৎস্য, কৃষিসহ বিভিন্নভাবে কাপ্তাই হ্রদের ওপর নির্ভরশীল প্রায় তিন লাখ মানুষ। পাহাড়ের মাটি কেটে অপরিকল্পিত কৃষি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ২০১৭ সালের ভয়াবহ পাহাড় ধসে ক্রমাগত ভরাট হচ্ছে কাপ্তাই হ্রদের তলদেশ। বিভিন্ন সময় খননের উদ্যোগ নেওয়া হলেও হ্রদ সংরক্ষণে কোনো মহাপরিকল্পনা নেই, অভিযোগ স্থানীয়দের।
তবে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মো. হাবিব উল্লাহ বলছেন, কাপ্তাই হ্রদ সংলগ্ন নদীপথ খননের কাজ চলছে, যার সুফল কিছুদিনেই মিলবে।