নোয়াখালীতে বৃষ্টিতে পানিবন্দী ৪৫ হাজার মানুষ

নোয়াখালীতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আবারও বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি বাড়ার সাথে সাথে জেলা শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। 

জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, আজ সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীতে ৩২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে জেলা শহরের হাউজিং, মধুসূদনপুর, লক্ষীনারায়নপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পথঘাট, বাসাবাড়ি, দোকানপাট এবং অফিস-আদালতের সামনে পানি জমে আছে। আজকের বৃষ্টিতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বেড়েছে জনদুর্ভোগ।

জেলা শহরের হাউজিং এলাকার সিটি কার সার্ভিসের স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ নিয়ে তিনবার তার প্রতিষ্ঠানটি বৃষ্টির পানিতে ডুবে অনেক মালামাল নষ্ট গেছে। ভারী বৃষ্টি হলেই সার্ভিসিং সেন্টারে পানি উঠে যায়। কর্মীদের সবাইকে ছুটি দিয়ে প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয়। পানি না নামা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয়। এভাবে একদিকে সবাই কর্মহীন হয়ে পড়ছি, অন্যদিকে পানি উঠে মালামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত আমার ১৫ লাখ টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠা অসম্ভব।’ 

মিজানুর রহমান আরও বলেন, ‘মূলত শহরের ড্রেন ও খালগুলোর বেহাল দশার কারণে নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। হাউজিং এস্টেটে প্রতিটি সড়ক পানির নিচে। বাসাবাড়ি, অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো জলমগ্ন হয়ে আছে।’

বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুরের বিজয় মজুমদার বলেন, ‘গত দুই সপ্তাহ থেকে আমরা পানিবন্দী হয়ে আছি। বাড়িতে পানি, সড়কে পানি। পানিতে ডুবে গেছে সবজির মাঠ, ভেসে গেছে পুকুরের মাছ।’

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসের আজকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নোয়াখালীতে ৪৫ হাজার ৭০৩ জন মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় আছেন।