তহবিলের অভাবে বন্ধ কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোর বেশিরভাগ স্কুল

আন্তর্জাতিক তহবিলের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোতে বেশিরভাগ এনজিও পরিচালিত স্কুল। এতে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোহিঙ্গা শিশুরা। বর্তমানে ৫ লাখ রোহিঙ্গা শিশু শিক্ষা গ্রহণ করতে পারছে না বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি। এতে চলতি বছর সেখানে বাল্যবিবাহের ঘটনা ৩ শতাংশ এবং শিশুশ্রম ৭ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।

কক্সবাজারের কুতুপালং ও বালুখালি রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে বেশিরভাগ এনজিও পরিচালিত স্কুলগুলোতে এখন এভাবেই তালা ঝুলছে। আন্তর্জাতিক তহবিলের অভাবে গত জুন থেকে বন্ধ স্কুলগুলো। তাই সড়কে খেলাধুলা করেই দিনপার করছে রোহিঙ্গা শিশুরা।

বর্তমানে এই শিবিরগুলোতে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরর্ণাথী বসবাস করছে। এদের মধ্যে অর্ধেকই শিশু। স্কুলগুলো বন্ধ হওয়ায় শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা। সেখানে ১২ বছরের কম বয়সী কোন রোহিঙ্গা শিশুই শিক্ষা গ্রহনের সুযোগ পাচ্ছে না বলে জানিয়েছে আইআরসি।

পড়াশুনা বন্ধ থাকায় সন্তানদের অনিশ্চিত জীবনের দিকে এগিয়ে যেতে দেখে উদ্বিগ্ন রোহিঙ্গা অভিভাবকরা। সন্তানরা যেন কোন ভুল পথে পরিচালিত না হয় সেজন্য কন্যা শিশুদের বাল্যবিবাহ আর ছেলে শিশুদের কায়িক শ্রমমূলক কাজে পাঠাচ্ছেন অনেক বাবা-মা। 

এক নারী বলেন, ‘আমার অনেকগুলো মেয়ে আছে। আমি ওদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারিনি। তবে ওদের স্বামীরা কথা দিয়েছে পড়াশোনা করাবে।’

আরেক রোহিঙ্গা যুবক বলেন, ‘মিয়ানমারে আমরা নিজেদের বাড়িঘর পুড়তে দেখেছি। আর এখন এই শিবিরে আমাদের নতুন প্রজন্মের স্বপ্নগুলোকে পুড়তে দেখছি।’

মার্কিন সহায়তা কমে যাওয়ায়, গত জুনে তহবিলের অভাবে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোতে ইউনিসেফ পরিচালিত সাড়ে ৪ হাজার স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গা শিশু, আর কর্মহীন হয়ে পড়েছে ১২শ শিক্ষক। 

রানা ফ্লাওয়ার্স((মেয়ে))

এক ইউনিসেফ প্রতিনিধি বলেন, ‘বাল্য বিবাহের পাশাপাশি আমরা শিবিরের ভেতরে শিশুদের শ্রমমূলক কাজেও নিয়োগ পেতে দেখছি, যা আন্তর্জাতিক আইন পরিপন্থী। স্কুলই তাদের এ থেকে রক্ষা করতে পারে কারণ তারা ব্যস্ত থাকে।’

অতিরিক্ত মানুষের চাপে শরর্ণাথী শিবিরগুলোর অবস্থা ভয়াবহ। তার ওপর তহবিল ঘাটতিতে সংকট আরো তীব্র হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থাগুলো।