ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ-বিশ্বরোড অংশে যানজটে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের ভোগান্তির পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। খানাখন্দ আর প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশ্বরোড গোলচত্বর এতদিন হয়ে উঠেছিল গলার কাঁটা। তবে এবার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় দেওয়া হচ্ছে বিশেষ গুরুত্ব। সেইসাথে সড়ক বর্ধিতকরণ কাজ ২ বছর বন্ধ থাকার পর মেয়াদ বাড়িয়ে আবারও শুরু হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চান্দুরা পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে প্রায় রোজকার ভোগান্তির কারণ ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট। গত প্রায় ২ বছর ধরে ফোর লেনের নির্মাণ কাজ বন্ধ ছিল। এছাড়া বৃষ্টিতে খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় বেহাল মহাসড়ক।
সম্প্রতি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গিয়ে প্রায় ৩ ঘণ্টার যানজটে আটকা পড়েন সড়ক উপদেষ্টা নিজেই। এসময় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। পরে হাইওয়ে পুলিশের বাড়তি সদস্য মোতায়েনসহ বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
মহাসড়কের বিভিন্ন যানবাহনে পণ্য বিক্রি করা এক হকার বলেন, ‘ঢাকা যাইতে আগে ৪ ঘণ্টা, ৫ ঘণ্টা, ৮ ঘণ্টাও লাগছে (লেগেছ)। অহন তো রাস্তা জমজমাট অইছে। গাড়ি আইতাছে–যাইতাছে, কোনো যানজট নাই।’
এক যাত্রী বলেন, ‘রোড একদম ক্লিয়ার থাকে। খুব সুন্দর পরিবেশে পরিবহন চলতাছে।’
মহাসড়কের পাশের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এক ব্যক্তি বলেন, ‘পাশে যে বাস কাউন্টারগুলো, এই কাউন্টারের সামনে বাস দাঁড়ানোর কারণে বিশ্বরোড গোলচক্করে যানজটটা সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি কিছু অবৈধ দোকানপাট আছে। দোকানপাটগুলো যদি তুলে দেওয়া হয়, পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থা আরেকটু ভালো করা হলে যানজট থাকবে না।’
সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে বিশ্বরোড গোলচত্বরের চারপাশে খানাখন্দ ভরাট, রাস্তা সংস্কার ও ডিভাইডার বসানোর কাজও শুরু হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে দুবছর। সেইসাথে নির্ধারিত সময়েই কাজ শেষের আশ্বাস কর্মকর্তাদের।
আশুগঞ্জ-আখাউড়া চার লেন প্রকল্পের ব্যবস্থাপক মো. মোস্তাকুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘বিশ্বরোড গোলচত্বরটাকে আরও একটু প্রশস্ত করব। গোলচত্বরকে প্রশস্ত করেই মেরামত কাজটা চালিয়ে যাব। এর ফলে গোলচত্বরের জায়গাটা বেড়ে যাবে। তখন ট্রাফিকগুলো মুভমেন্ট (যানবাহন চলাচল) করতে আরও সহজ হবে। আমরা সেই কাজটাই করছি।’
আশুগঞ্জ নৌ-বন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত ৫০ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার মহাসড়ক চারলেন করার কাজ শুরু হয় ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে। কিন্তু ৫ বছরেও শেষ হয়নি নির্মাণ।