নামের ভুলে হামলার মামলায় এক মাস ধরে কারাগারে ভ্যানচালক আমান

শুধু নামের ভুলে হামলার মামলায় এক মাস ধরে জেলহাজতে রয়েছেন চাঁদপুরের ভ্যানচালক আমান ছৈয়াল। মূল আসামি জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আমান আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে পলাতক। যাচাই-বাছাই না করা এবং পুলিশের ভুলের কারণে এর কোনো সমাধান পাচ্ছে না ভুক্তভোগী পরিবার। 

চাঁদপুর শহরের দর্জিঘাট এলাকার মোল্লা বাড়িতে পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকেন ভ্যানচালক আমান ছৈয়াল। গত ২০ অক্টোবর রাতে তাঁকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। থানায় গিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদের বাসভবন ভাঙচুর ও লুটপাট মামলার আসামি আমান।  

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাঁর স্ত্রী বলেন, ‘এইভাবে আমাদের কষ্ট দিতাছে। আজকে আমার স্বামী জেলখানায় অসুস্থ।’  

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শহরের হাজী বাড়ির আমানুল্লাহ আমান ওই মামলার ১৮৫ নম্বর আসামি। তাঁর বাবার নাম আবদুর রশিদ হলেও আমান ছৈয়ালের বাবার নাম মান্নান ছৈয়াল। মূল আসামির ঠিকানায় গিয়ে তার পরিচয় মিললেও, ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর থেকে পলাতক তিনি। 

যাচাই-বাছাই ছাড়া নিরপরাধ কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার গ্রহণযোগ্য নয়। এটিকে দায়িত্বে অবহেলা ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন বলছেন আইনজীবীরা। 

আইনজীবী সেলিম আকবর বলেন, ‘ভুলক্রমে তাঁকে যদি গ্রেপ্তার করেও থাকে তাহলে দ্রুত আদালতের মাধ্যমে তাঁকে জামিন দেওয়াটা খুব জরুরি। তা না হলে এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, মূল আসামির পরিবর্তে নিরপরাধ কেউ গ্রেপ্তার হয়ে থাকলে, পুন:তদন্ত করে নেয়া হবে আইনি পদক্ষেপ। 

চাঁদপুর সদর মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহার মিয়া বলেন, ‘যদি তিনি প্রকৃত আসামি না হন, তাহলে অবশ্যই আমরা এই বিষয়টি তদন্ত করে পুনর্বিবেচনা করব। এই নামে যদি অন্য কেউ থেকে থাকে সেটাও আমরা তদন্ত করে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করব।’

আসামি শনাক্তে কারো গাফিলতির প্রমাণ পেলে, ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।

চাঁদপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অ্যাপস) মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘কারো যদি এ ধরনের কোনো অভিযোগ থাকে, আমাদের কাছে যদি আবেদন করে তাহলে আমরা প্রয়োজনীয় তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। পুলিশ সদস্যদের কেউ যদি এ ধরনের অনিয়মের সাথে জড়িত থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

একই মামলায় আসামির ভাই আমানতকে আটকের পর ছেড়ে দিলেও, নিরপরাধ ভ্যানচালককে ঠিকই কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। 
দ্রুত তাঁর মুক্তি চেয়েছেন স্বজনরা।