ট্রাফিক বিভাগের অনিয়ম বন্ধসহ ৭ দফা দাবি 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২ ডিসেম্বর থেকে লাগাতার পরিবহন ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রাফিক বিভাগের অনিয়ম বন্ধসহ ৭ দফা দাবি পূরণ না হলে আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে জেলায় লাগাতার পরিবহন ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সোমবার দুপুরে জেলা সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ তাদের দাবি বাস্তবায়নে ডাকা মানববন্ধনে এ হুঁশিয়ারি দেয়।

জেলা শহরের কাউতলীতে কুমিল্লা–সিলেট মহাসড়কে এ মানববন্ধন হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয় তারা।

মানববন্ধনে পরিবহন নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ট্রাফিক বিভাগের অনিয়ম, দুর্নীতি ও হয়রানির কারণে পরিবহন খাতে অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মীর আনোয়ারকে অপসারণ ও ট্রাফিক বিভাগের দুর্নীতি বন্ধ, আটক গাড়ি মালিকদের জিম্মায় দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া, পরিবহন নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং শহরে মালবাহী যানবাহন চলাচলের সময়সূচি পুনঃনির্ধারণ এবং বাঁশবাজার এলাকায় ট্রাক লোড–আনলোডের স্থায়ী ব্যবস্থা করা, মহাসড়কে অযান্ত্রিক যান চলাচল বন্ধ, সহজ শর্তে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান, রিকুইজিশনের নামে হয়রানি বন্ধ এবং রিকুইজিশনকৃত গাড়ির মালিক–চালকদের সরকারি ভাতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

জেলার অভ্যন্তরে চলাচলরত বাস, ট্রাক, ট্যাংক লরি, মাইক্রোবাস এবং সিএনজি. অটোরিকশাসহ  সকল যান্ত্রিক যানবাহনের ১১ সংগঠন নিয়ে গঠিত জেলা সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ স্মারকলিপি দেয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, বর্তমানে জ্বালানি, টায়ার, টিউব ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের দাম ৫ গুন হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের ব্যবসা একটি অলাভজনক ব্যবসায়ে পরিণত হয়েছে। বিগত সময়ের করোনাসহ ৫ আগস্টের পর পরিবহন ব্যাবসা দিন দিন আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে। এছাড়াও  জেলার আশুগঞ্জ থেকে কুটি পর্যন্ত রাস্তার ফোর লাইনের কাজের ধীরগতি এবং রাস্তার বেহাল দশার জন্য প্রায় ২ বছর ধরে গড়ে মাসে ১০ দিনও গাড়ি চালানো যচ্ছে না। এরই মাঝে জেলার ট্রাফিক বিভাগ বিশেষ করে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মীর আনোয়ার বিভিন্ন কায়দায় ও অপকৌশল করে বেআইনিভাবে মালিক শ্রমিকদেরকে নাজেহাল এবং সকল প্রকার যান্ত্রীক গাড়ির ক্ষতি করছেন।

এছাড়াও তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় মালিক শ্রমিকদের ব্যঙ্গাত্মকভাবে অপমান করছেন। এমনকি তিনি বেআইনি কার্যক্রমের মাধ্যমে জেলার শত শত সিএনজি অটোরিশা এবং চারটি বাস আটক করে রেখেছেন। অনেকবার তার দ্বারস্থ হওয়ার পরও তিনি কোনো সাড়া দেননি এবং সন্তোষজনক জবাব দিচ্ছেন না। এরই প্রেক্ষিতে তার সেচ্ছাচারী কার্যকলাপের এবং যানবাহনের উপর অযাচিত বেআইনি ও দুর্নীতি কার্যক্রমের ফলে আজ পঞ্চাশ-ষাট হাজার মালিক শ্রমিক ক্ষোভে ফোঁসে উঠেছে। এমতাবস্থায় অতি দ্রুত তাকে অপসারণ করা প্রয়োজন। 

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ নিয়ামত খান, সদস্য সচিব মো. মেরাজ ইসলামসহ অন্যান্য শ্রমিক নেতারা। পরে সাত দফা দাবির স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের কাছে হস্তান্তর করেন পরিবহন মালিক–শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতারা।