লক্ষ্যের ৮ ভাগ গাড়ি চলে চট্টগ্রামের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে, বাড়ছে লোকসান

লক্ষ্যমাত্রার মাত্র আট শতাংশ গাড়ি চলাচলের কারণে চট্টগ্রামের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের লোকসান বেড়েই চলেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে দেওয়া টোল আদায়ের চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এক্সপ্রেসওয়েটির খরচ উঠতে সময় লাগতে পারে ২৩৫ বছর। নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পনার অভাবে এটি লাভের মুখ দেখছে না।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যুরো অব রিসার্চ টেস্ট অ্যান্ড কনসালটেশনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা অনুযায়ী প্রতিদিন প্রায় ৪০ হাজারের বেশি গাড়ি চলাচলের কথা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে। যা থেকে বছরে টোল আদায়ের কথা ছিল প্রায় ১০০ কোটি টাকা।

কিন্তু এটি চালু হওয়ার পর গাড়ি চলছে ওই সমীক্ষার ৮ শতাংশের কিছু বেশি। পরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলার অনুমতি দিলেও বাড়েনি টোল আদায়। তবে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) দাবি, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে এখন কিছুটা বেড়ে দৈনিক গাড়ি চলছে প্রায় সাত হাজার, গড়ে টোল আদায় হচ্ছে পাঁচ লাখ টাকা।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও সড়ক বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী সুভাস বড়ুয়া বলেন, ব্যাপক পরিকল্পনা ছাড়া এই এলিভেটেড এক্সপ্রেস নির্মাণ করা হয়েছে। ওঠা-নামার ব্যবস্থা শুরুতে রাখা হয়নি।

সুজনের সভাপতি সিকান্দার খান বলেন, সমালোচনার পর অনেক টাকা গচ্চা দিয়ে র‍্যাম্প বসানোর কাজ চললেও সেটা কতটুকু সুফল আনবে তা প্রশ্নসাপেক্ষ।

সিডিএ প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ আবু ঈসা আনসারী বলছেন, এখনই এই প্রকল্প লাভজনক হয়ে উঠবে না। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নেওয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ।

নির্বাচনের আগে কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই তড়িঘড়ি করে ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর উদ্বোধন করা হয় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। প্রায় এক বছর বিনা খরচে যানবাহন চললেও গেল ৩ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় টোল আদায়।