অবশেষে সেন্টমার্টিনের পথে পর্যটকবাহী জাহাজ

কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ চলাচলের অনুমতি পাওয়ার একমাস পর অবশেষে সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে তিনটি জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এসব জাহাজে প্রায় ১১শ পর্যটক রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেল।

এর আগে, আজ সকালে সরকারিভাবে দেওয়া ১২ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও ট্যুরিস্ট পুলিশ যাত্রীদের কঠোর যাচাই-বাছাই করে জাহাজে তুলে দেয়।

সকালে নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএর ঘাটে পরিদর্শনে এসে জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান জানান, যারা ভ্রমণে যাচ্ছেন তাদের অবশ্যই নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। দ্বীপের ক্ষতি হোক এমন কোনো কাজ করা থেকে পর্যটকদের বিরত থাকার অনুরোধ জেলা প্রশাসকের।

সেন্টমার্টিনে রাত্রিযাপনের বিষয়ে জেলা প্রশাসক জানান, টিকিট ও ট্রাভেল পাস অনলাইনে কেটেই যেতে হবে এবং প্রবেশপথে কিউআর কোড স্ক্যান করে যাচাই করা হচ্ছে, যাতে নির্ধারিত সংখ্যার বেশি পর্যটক দ্বীপে প্রবেশ না করতে পারে। আর যারা ভ্রমণে যাচ্ছে তারা রাত্রিযাপনের সুযোগ পাবে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, ‘পর্যটকদের নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করতে ঘাটে, প্রতিটি জাহাজে এবং সেন্টমার্টিনে ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’

ঢাকা থেকে ভ্রমনে আসা পর্যটক আরাফাত বলেন, ‘আমরা সরকারের সিদ্ধান্তকে সাদুবাদ জানাই। তবে ভ্রমণের সময়সীমা বাড়ালে পর্যটকেরা আরও বেশি আনন্দ উপভোগ করতে পারবে।’

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন বলেন, ‘জাহাজগুলো কঠোর নজরদারিতে থাকবে এবং দৈনিক দুই হাজারের বেশি পর্যটক যেতে দেওয়া হবে না। নুনিয়ারছড়া ও সেন্টমার্টিন জেটিঘাটে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা নিয়মিত তাদের দায়িত্ব পালন করবেন।’

এদিকে  আরও চারটি জাহাজ চলাচলের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। প্রশাসনের অনুমতি পেলেই ধাপে ধাপে সেগুলোও কক্সবাজার–সেন্টমার্টিন নৌ রুটে চলাচল করবে। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দুই মাস নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকেই পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকবে।

আগামী বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে আবার টানা ৯ মাস সেন্টমার্টিনে পর্যটক প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। ভ্রমণ সময়সূচি ও পর্যটকসংখ্যা এবার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে।

সরকারি নির্দেশনা বলা হয়েছে, রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি, বারবিকিউ পার্টি, কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ বা ক্রয়-বিক্রয় এবং সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ যেকোনো জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ যেকোনো মোটরচালিত যান চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে।

ভ্রমণকালে পলিথিন বহন করা যাবে না। একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক যেমন চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিক চামচ, স্ট্র, সাবান ও শ্যাম্পুর মিনিপ্যাক, ৫০০ বা ১০০০ মিলিলিটারের প্লাস্টিক বোতল ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। পর্যটকদের নিজেদের পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, ‘‘কর্ণফুলী এক্সপ্রেস’, ‘এমভি বারো আউলিয়া’ ও ‘কেয়ারি সিন্দাবাদ’– এই তিনটি জাহাজে করে পর্যটকরা সেন্টমার্টিনের পথে যাত্রা করেন।’ 

হোসাইন ইসলাম বাহাদুর আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে রুটটি বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এবার দুই মাস আমরা ব্যবসা চালানোর চেষ্টা করব। সরকার যদি আরও কিছু সময় রাত্রিযাপনের অনুমতি দিত, তাহলে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে যেতে পারত।’