তিন বছর আগে উদ্বোধন হলেও চাঁদপুরের মতলবে ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগারটি কোনো কাজেই আসছে না স্থানীয়দের। পানির লাইনে লিকেজসহ নানা জটিলতায় সরবরাহ করা যাচ্ছে না বিশুদ্ধ পানি। কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হলেও নাগরিক সেবা বঞ্চিত স্থানীয়রা। প্রকল্পে জড়িতদের দুর্নীতি ও তদারকির অভাবকে দায়ী করছেন তাঁরা।
বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটাতে ২০২২ সালে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভায় ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগার উদ্বোধন করা হয়। তবে তিন বছর পরও পুরোপুরি চালু করা যায়নি এটি। লাইনের লিকেজ ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। অনেক এলাকায় পানিতে সয়লাব ময়লা ও শ্যাওলা। নাগরিক সেবার বদলে উল্টো ভোগান্তিতে পৌর এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘মাসের পর মাস পার হয়, পৌরসভার পানির পাইপগুলা ভালো হয় না। আর পানিও ঠিক মতো আসে না। কয়েকবার বলা হয়েছে যে পাইপ ভেঙে যায়, আপনারা ঠিক করে দেন। পুরো পৌরসভায় ভাঙা পাইপ লাগানো হয়েছে।’
চাঁদপুর মতলব উত্তরের ছেঙ্গারচর পৌরসভার পানির পাম্পের অপারেটর মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১১ কোটি টাকা। ৪৫০ ঘন মিটার ধারণ ক্ষমতার পানি শোধনাগারটির মাধ্যমে ছেঙ্গারচর পৌরসভার প্রায় ৬০ হাজার মানুষের কাছে বিশুদ্ধ পানি পৌঁছানোর লক্ষ্য। তবে আওতায় এসেছেন মাত্র ৩০০ গ্রাহক। এখানে পর্যাপ্ত লোক নেই, আমাদের এখানে যে পরিমাণ জনবল দরকার ওই পরিমাণ নেই। ফলে এটি চালানো সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিদিন যে নিয়মে পাম্প চলছে তাতে এলাকাবাসীর পুরোপুরি চাহিদা মেটাতে পারছি না।’
এ বিষয়ে চাঁদপুর মতলব উত্তরের ছেঙ্গারচর পৌর প্রশাসক মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ‘যেখানে লাইন লিকেজ আছে কিংবা পানি অপচয় হচ্ছে, সে জায়গাগুলোকে আমরা মেরামত করার জন্য বিশেষভাবে চেষ্টা করছি। স্থায়ী সমাধান করা না গেলে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে অন্য কোনো পৌরসভা থেকে এনেও যদি কাজ করানো সম্ভব হয় করা হবে।’