ফেনীতে জুলাই আন্দোলনে কলেজছাত্র মাহবুবুল হাসান মাসুম হত্যা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী এবং ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ ১৭১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
বুধবার বিকেলে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলি আদালতের বিচারক মোহাম্মদ হাসান অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন। এর মাধ্যমে ফেনীতে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনায় দায়ের হওয়া ২২টি মামলার মধ্যে প্রথম কোনো মামলার চার্জশিট গ্রহণ করলেন আদালত।
এর আগে বুধবার সকালে মামলার নির্ধারিত তারিখে শুনানি শেষে বিচারক আদেশের জন্য মামলাটি অপেক্ষমাণ রাখেন।
২০২৫ সালের ৩১ জুলাই ১৭১ জনের বিরুদ্ধে ফেনী সদর আমলি আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক দফা দাবিতে আয়োজিত অসহযোগ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন কলেজছাত্র মাহবুবুল হাসান মাসুম। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ আগস্ট চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান।
মাহবুবুল হাসান মাসুম ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের তরাব পাটোয়ারী বাড়ির বাসিন্দা এবং মৃত মাওলানা নোমান হাসানের ছেলে। তিনি ছাগলনাইয়ার আবদুল হক চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ থেকে বাংলায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
এ ঘটনায় ওই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর নিহতের ভাই মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৬২ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়।