নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ‘ভোটের বিরোধের জেরে’ এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা–সমালোচনার মধ্যে একই অভিযোগে এবার আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ওই নারী বাদী হয়ে বুধবার নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ ছয়জনকে আসামি করে এ মামলা দায়ের করেন।
বিচার মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সিকদার বাদীর অভিযোগটি হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করার জন্য আদেশ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাতিয়া থানার ওসি মো. সাইফুল আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
ওসি বলেন, ‘আজ বিকেলে আদালতের আদেশ হাতে পাওয়ার পর নির্দেশনা অনুযায়ী বাদীর অভিযোগ থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাদীর নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
মামলায় উল্লেখিত ছয় আসামি হলো- হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে আবদুর রহমান (৩২), আবদুল গফুরের ছেলে মো. মতিন (৩৫), হালিম ডুবাইর ছেলে হেলাল উদ্দিন কেরানী (৪০), আবুল কাশেমের ছেলে মো. রুবেল (৩০), ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোস্তফা সর্দারের ছেলে এমরান হোসেন ওরফে কালা এমরান (৩৫) এবং ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর আজিমপুর গ্রামের মো. মোস্তফার ছেলে বেলাল মাঝি (৪৮)।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার পর ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে আসামিরা অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পে হামলা চালায়। এ সময় তারা বাদীর বসতঘরে প্রবেশ করে তাকে ও তার স্বামীকে মারধর করে। পরে স্বামীকে একটি কক্ষে আটকে রেখে গোসলখানায় নিয়ে ১ নম্বর আসামি আবদুর রহমান তাকে ধর্ষণ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তারা চলে যায়। পরদিন ভোরে অভিযুক্তরা আবারও হামলা চালিয়ে দম্পতিকে মারধর করে এবং বাদীর শ্লীলতাহানি করে। এ সময় ‘শাপলা কলি’র আরেক নারী কর্মীর ঘর দেখিয়ে দিতে চাপ প্রয়োগ করা হয় এবং ওই ঘরেও ভাঙচুর চালানো হয়।
এর আগে, ১৪ ফেব্রুয়ারি ওই নারী প্রথমে শারীরিক নির্যাতের শিকার হয়েছেন এবং পরে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন উল্লেখ করে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি জন। বর্তমানে তিনি পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘অভিযোগকারীর শারীরিক পরীক্ষার জন্য তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। পুলিশের চাহিদাপত্রের আলোকে শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’
মেডিকেল বোর্ডে রয়েছে– গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. শিরিন সুলতানা, ডা. ফাতেমা জোয়ান মুনিয়া ও ডা. তাহমিনা আক্তার। ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. নোমান সিদ্দিক বলেন, ‘অভিযোগ গ্রহণের পর বিচারক হাতিয়া থানার ওসিকে মামলা রুজু করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।’
অন্যদিকে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই বিএনপিকর্মীর দাবি, হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়নে যে সময় ধর্ষণের কথা বলা হচ্ছে, তখন তিনি নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
তার দাবি, ‘শাপলা কলির পক্ষে কাজ করতে রাজি না হওয়ায়’ তাকে পিটিয়ে জখম করা হয়।