ফেনীর ছাগলনাইয়ায় কৃষিজমির মাটি কাটা নিয়ে বিরোধে আবু আহমেদ (৩৭) ওরফে হোনা মিয়া নামে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন দুজন। তাঁদেরকে ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার পাঠাননগর ইউনিয়নের কন্ট্রাক্টর মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। উত্তেজিত লোকজন হামলায় জড়িত সন্দেহে ছাত্রদল কর্মীসহ সাতজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
নিহত হোনা মিয়ার বাড়ি পূর্ব পাঠাননগর গ্রামে। তিনি ওই এলাকার আবুল কাসেমের ছেলে।
ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত আলাউদ্দিন জানান, তিনি পাঠান নগর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য। নিহত হোনা মিয়া সম্পর্কে তাঁর চাচাতো ভাই। তিনি মাটি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। হোনা মিয়া শ্রমিকের কাজ করতেন।
স্থানীয়রা জানান, আলাউদ্দিন পাঠান নগরের এক ব্যক্তির কাছ থেকে মাটি কেনেন। তিনি শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে জমি থেকে মাটি কেটে পিকআপ ভ্যান দিয়ে অন্যত্র বিক্রি করছিলেন। কন্ট্রাক্টর মসজিদ এলাকায় গাড়ির টোকেন ম্যানের দায়িত্বে ছিলেন হোনা মিয়া। এ সময় ছাগলনাইয়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদে প্রার্থী কামরুল হাসান জাহিদ তাঁর কয়েকজন সহযোগী নিয়ে কন্ট্রাক্টর মসজিদ এলাকায় আসেন। তিনি মাটি কাটায় বাধা দিয়ে দুটি পিকআপভ্যান আটক করে ফেসবুকে লাইভ করেন। এ সময় হোনা মিয়ার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তাঁর সঙ্গে তর্কে জড়ান।
আলাউদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, তিনি হোনা মিয়ার কাছ থেকে কিছু দূরে ছিলেন। ছাগলনাইয়া থেকে আসা ১০ থেকে ১২ জন মিলে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে হোনা মিয়াকে মারধর করে ঘটনাস্থলেই মেরে ফেলেন। এ সময় হোনা মিয়াকে বাঁচাতে গিয়ে তিনিও মারধরের শিকার হন। পরে তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন বের হয়ে জাহিদসহ সাত জনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। আর হতাহতদের হাসপাতালে পাঠায় স্থানীয়রা।
ছাগলনাইয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম জানান, খবর পেয়ে ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান তিনি। পুলিশ যাওয়ার আগেই হতাহতদের ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের সহায়তায় আটকদের নেওয়া হয় ফেনী মডেল থানায়।
ফেনী সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই মারা যান হোনা মিয়া। মরদেহ ফেনী হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।
ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাইফুল ইসলাম জানান, রাতে ছাগলনাইয়াতে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মারামারিতে ঘটনাস্থলে একজন নিহত হন। এ সময় আহত হন আরও দুজন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সাতজনকে আটক করেছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।