নির্বাচনের ৩ দিন পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইনজীবি সমিতির ভোটের ফল প্রকাশ

নির্বাচনের ৩ দিন পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইনজীবি সমিতির ভোট পুনরায় গণনা করে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে সভাপতি পদে মোহাম্মদ মফিজুর রহমান বাবুল এবং সাধারণ সম্পাদক এ কে মো. আবদুল হাই নির্বাচিত হয়েছেন। দুজনই আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী।

গতকাল রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার আব্দুল মালেক। 

এর আগে গত বৃহস্পতিবার অর্ধেক ভোট গণনার পর গণনা স্থগিত করা হয়েছিল। এ নিয়ে তখন উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। জোর করে তখন ভোট গণনা বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ উঠে।

নির্বাচনে দিনভর শান্তিপূর্ন পরিবেশে ভোট গ্রহণের পর সন্ধ্যায় সহ-সভাপতি পদের এক প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী সুধীর চন্দ্র ঘোষ ভোটারদের ব্যালট ও মুড়িতে একই ক্রমিক নম্বর উল্লেখ থাকায় ভোটারের গোপনীয়তা নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তার পাশাপাশি মৌখিক অভিযোগ করেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আবদুর রহমান ও আনিছুর রহমান মঞ্জু। এর প্রেক্ষিতে ভোটগণনা স্থগিত করা হয়েছে জানানো হলেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার ভোট গণনার পরিবেশ না থাকার কথাও বলেন। 
 
নির্বাচনে ৩৩১ ভোট পেয়ে সভাপতি পদে জয়ী হন মোহাম্মদ মফিজুর রহমান বাবুল। তাঁর প্রতিদ্বন্দী আবদুর রহমান পেয়েছেন ৩১২ ভোট। ৩১৪ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন এ কে মো. আবদুল হাই। তাঁর নিকটম প্রতিদ্বন্ধী আনিছুর রহমান মঞ্জু পেয়েছেন ২১৫ ভোট।

এ ছাড়া অন্যান্য পদে নির্বাচিতরা হলেন–সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. ইউসুফ কবীর ফারুক, সহ-সভাপতি মো. আবদুল হাকিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক-১ মো. আলাউদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক-২ মো. জাকির হোসাইন (অনিক), পাঠাগার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক আবু সালেহ মোহাম্মদ ফাহাদ, কল্যান ও সংস্কৃতি সম্পাদক মো. রাকিব হোসেন,মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মোছাম্মৎ আফরোজা বেগম,অডিটর মোহাম্মদ আল মামুন, ৪৮৮ ভোট পেয়ে ১ নম্বর সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন মো. ফোরকান উদ্দিন, ৪৭৪ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় সদস্য হয়েছেন মো. রেজাউল করিম, তৃতীয় সদস্য মোহাম্মদুল্লাহ পেয়েছেন ৪৬৯ ভোট এবং ৪৫২ ভোট পেয়ে চতুর্থ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন মো. আল আমিন।

সমিতির কার্য নির্বাহী কমিটির ১৫টি পদে গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সমিতির মোট ৬৮৯ জন ভোটারের মধ্যে ৬৫৪ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত দুই শতাধিক ভোট গণনা করার পর গণনা স্থগিত করা হয়।