ইনডিপেনডেন্ট টিভির সংবাদের পর নোয়াখালীর ঝুঁকিপূর্ণ সেতুতে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ

নোয়াখালীর সুবর্ণচর থেকে হাতিয়ায় যোগাযোগের একমাত্র সড়ক সংযোগ সেতুটির ওপর দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচলে ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনে সংবাদ প্রকাশের পর গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে ভারী যানবাহনকে ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটি পরিহার করে বিকল্প সড়ক দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এর আগে, এ বিষয়ে নোয়াখালী সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকিং, সাইনবোর্ড স্থাপন ও জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশন করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, নোয়াখালী সড়ক বিভাগের আওতাধীন ভূঁঞারহাট –চেয়ারম্যানঘাট সড়কের ভূঁঞারহাট সেতুটি বালুবাহী ট্রাকসহ ভারী যানবাহন চলাচল এবং সম্প্রতি হাতিয়ায় ফেরি চলাচল আরম্ভ হওয়ায় ভারী যানবাহন চলাচল অত্যাধিক বৃদ্ধির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই অবস্থায় বৃহস্পতিবার হতে ছোট ও হালকা যানবাহন যেমন প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, সিএনজি, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ছাড়া অন্যান্য ভারী যানবাহন যেমন বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, ট্রাংক লরিকে ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটি পরিহার করে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের জন্য অনুরোধ করা হয়।

ঝুঁকি এড়াতে সড়ক বিভাগের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে, ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটির স্থলে দ্রুত একটি নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে নোয়াখালী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটি আরো যাতে ঝুঁকিপূর্ণ না হয়ে যায় এজন্য সেতুটির দুই পাশে হাইট ব্যারিয়ার এবং সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। ভারী যানবাহন যাতে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি এড়িয়ে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে পারে। এছাড়া শিগগিরই সেতুটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী অর্থ বছরে সেতুটির পাশে একটি নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা পরিকল্পনা রয়েছে।’

গত রোববার ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনে সেতুটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ ভারী যানবাহন চলায় যেকোনো সময় সেতুটি ধ্বসে পড়ার শংকা প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রতিবেদনে সেতুটির ভিবিন্ন স্থানে ফাটল এবং রড বেরিয়ে আসার দৃশ্য দেখানো হয়।

উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সুবর্ণচর উপজেলার ভূঁঞারহাট এলাকায় স্টিমারঘাটে মেঘনার মরা নদীর ওপর ১০ ফুট প্রশস্ত সেতুটি নির্মাণ করে। সেতুটির উত্তরে সুবর্ণচর হয়ে জেলা সদর এবং দক্ষিণে হাতিয়ার চেয়ারম্যানঘাট। কয়েক বছর পর ব্রিজ এবং দুই পাশের সংযোগ সড়কটি এলজিইডি থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগে দেওয়া হয়। এরপর হাতিয়ার চেয়ারম্যানঘাট পর্যন্ত সড়কটি প্রসস্ত করা হলেও ব্রিজটি আগের অবস্থায় থেকে যায়।

এদিকে, গত ৩০ জানুয়ারি চেয়ারম্যানঘাট থেকে হাতিয়ায় ফেরি সার্ভিস চালুর ফলে এ অঞ্চলে যোগাযোগের পথ আরো সুগম হয়। কিন্তু বর্তমান সময়ে ব্রিজটি পুরাতন হয়ে যাওয়া ও ধারণ ক্ষমতার অধিক ভারি যানবাহন চলাচল করায় ব্রিজের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়। ১৪৯ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটিতে মোট ৪২টি পিলার রয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি পিলারের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়। অনেক জায়গায় কংক্রিট খসে পড়ে ভেতরের রড বেরিয়ে আসে। এছাড়া ব্রীজটি সরু হওয়ায় প্রতিনিয়ত হাতিয়া ও সুবর্ণচর অংশে যানজট লেগেই থাকে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ব্রিজের দুইপাশে সড়ক বিভাগ সাইন বোড দিয়ে ৫ টনের অধিক ভারি যান চলাচল নিষেধ করলেও রাতের অন্ধকারে ২৪/২৫ টন বালুভর্তি ট্রাক ও পন্যবাহী কাভার্ড ভ্যান চলাচল করতো। এতে যেকোন সময় সেতুটি ধসে পড়ার আশংকা করছিলেন সংশ্লিষ্টরা।