লক্ষ্মীপুরে তেওয়ারীগঞ্জে পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে অটোরিকশা চালক ফরহাদ হোসেনকে (৩০) হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ফসলি মাঠ থেকে ফরহাদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
নিহত ফরহাদ হোসেন সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব চরমনসা গ্রামের মো. দিদার হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশা চালক ছিলেন। এক সন্তানের জনক তিনি। হত্যাকারীরা তার ডান চোখ উপড়ে ফেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আজ সকালে তেওয়ারীগঞ্জের পূর্ব চরমনসা একটি ফসলি মাঠে অটোরিকশাচালক ফরহাদ হোসেনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ফরহাদ হোসেনের ডান চোখ পুরোপুরি নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
পরিবারের দাবি, পাওনা টাকা দেবে বলে এক ব্যক্তি ফরহাদকে বৃহস্পতিবার দিনগত গভীর রাতে মোবাইলফোনে ডেকে নেয়। আজ সকালে তার মরদেহ পাওয়া যায়। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন স্বজনরা।
ফরহাদের স্ত্রী নার্গিস বেগম জানান, পাওনা টাকা দেবে বলে বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ২টার দিকে এক ব্যক্তি তাকে ফোন করে বাড়ি থেকে ডেকে নেয়। রাতে আর বাড়ি ফেরেনি। শুক্রবার ভোরবেলা ফোনে কল দিলে বন্ধ পাওয়া যায়। সকালে বাড়ির এক কিলোমিটার দূরে ফসলি ক্ষেতে তার মৃতদেহ পড়ে থাকার খবর পান তিনি। টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, অটোরিকশাচালক ফরহাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের যে দাবি– পাওনা টাকা দিবে বলে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়, সেটাও তদন্ত করা হচ্ছে। এছাড়া অন্য কোন ঘটনা আছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের চিহিৃত করে গ্রেপ্তারের অভিযান চালানো হচ্ছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।