মামলার ভয়ে ছাত্রলীগ নেতার হার্ট অ্যাটাক, দাবি পরিবারের

গত বছরের আগস্টে পারস্য উপসাগরের তীরে অবস্থিত আরব দেশ কুয়েতে গিয়েছিলেন ছাত্রলীগ নেতা নুরুল ইসলাম সাগর (৩৫)। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক হামলা–মামলা থেকে নিজেকে রক্ষা এবং সংসারের উন্নতির জন্য জীবিকার সন্ধানে দেশটিতে যান তিনি।

তবে বৈধ কোনো কাগজপত্র না থাকায় সাগরকে সম্প্রতি কুয়েতের পুলিশ আটক করে জেলে পাঠিয়ে দেয়। ১৫ দিন কারাভোগের পর দেশটির পুলিশ গতকাল শনিবার বাংলাদেশগামী একটি বিমানে তুলে দেয় তাকে। শনিবার দিনগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে সাগর ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর তার প্রচণ্ড বুকে ব্যথা ওঠে। বিমানবন্দরের দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাকে দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। রাত আনুমানিক ২টার দিকে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় সাগরের।

মৃত সাগর ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শালধর গ্রামের মো. শাহজাহান মিয়ার ছেলে। তার স্ত্রীর নাম বিবি খাদিজা। সাগর–খাদিজা দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়ের নাম নুসাইবা ইসলাম ছেলের নাম তানজিম রিহান, তার বয়স নয় মাস।  

সাগরের ছোট বোন শেফালী আক্তার আরজু বলেন, ‘আমার ভাই মানসিক দুশ্চিন্তা থেকে হার্ট অ্যাটাক করেছেন। বাড়িতে আসলে রাজনীতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে হার্ট অ্যাটাক করেন।’

শেফালী আক্তার আরও বলেন, ‘আমার ভাই সম্পূর্ণ সুস্থ, তার শরীরে কোনো রোগ ছিল না। মানসিক দুশ্চিন্তা থেকে তার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে।’

জানা যায়, রোববার সাড়ে ৩টার দিকে নামাজের জানাজার শেষে মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মৃত সাগরের বাবা মো. শাজাহান জানান, ‘রাত ২টার দিকে পরশুরাম থানার পুলিশ বাড়িতে এসে আমার ছেলে ঢাকা বিমানবন্দরে মারা গেছে এবং লাশ কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে বলে জানায়। এরপর রাতে দুই প্রতিবেশীসহ গাড়ি নিয়ে সাগরের মরদেহ আনতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিই।’

মৃত সাগরের প্রতিবেশী জামসেদুল আলম বলেন, ‘সাগর গত বছরের আগস্টে কর্মসংস্থানের সন্ধানে ফ্রি ভিসায় কুয়েত গিয়েছিলেন। কিন্তু সে দেশে পুলিশের হাতে আটক হন। ১৫ দিন জেল খাটার পর পুলিশ তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়।’

জামসেদুল আলম আরও বলেন, ‘সাগর স্থানীয় চিথলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও ইউনিয়ন যুবলীগের বর্তমানে আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। বাড়িতে আসলে হামলা–মামলার শিকার ও পুলিশের হাতে ধরা পড়ার আশঙ্কা থেকে হার্ট অ্যাটাক করেছেন।’

পরশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘কুয়েত থেকে আসা একটি বিমান থেকে রাতে নামার পর বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে সাগর বুকে ব্যাথা অনুভব করে পড়ে যান। বিমানবন্দরে কর্তব্যরত পুলিশ তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাতে সে মারা যায়। তার সঙ্গে থাকা পাসপোর্টের ঠিকানা অনুযায়ী তার মৃত্যুর বিষয়টি পরশুরাম থানাকে অবহিত করলে পুলিশ রাতেই তার পরিবারকে জানিয়ে দেয়।’