নোয়াখালীর দুই উপজেলায় দুই ঘন্টায় পুকুরের পানিতে ডুবে তিন কন্যা শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সহোদর বোন রয়েছে।
রোববার সকাল ১১টায় সুবর্ণচর উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়নের দক্ষিণ চরক্লার্ক গ্রামে রোকসানা আক্তার (৯) ও আফসানা আক্তার (৫) নামের সহোদর দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে। তারা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার গাংছিল গ্রামের কৃষক মহিউদ্দিনের মেয়ে।
স্বজনরা জানান, রোকসানা ও আফসানা তাদের বাবা-মায়ের সাথে নানার বাড়িতে থাকতেন। স্থানীয় একটি মাদরাসার প্রথম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিল তারা।
জানা যায়, মাদরাসা বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বাড়ির পাশে খামারের পুকুরে গোসল করতে যায় দুই বোন। এ সময় ছোট বোন আফসানা পানিতে ডুবে যেতে থাকলে তাকে বাঁচাতে বড় বোন রোকসানা এগিয়ে যায়।
এক পর্যায়ে দুজনই পানিতে তলিয়ে যায়। পরে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করে পুকুর থেকে এক বোনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে জাল ফেলে আরেক বোনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তিনি দুই বোনকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে বলে জানান চরজব্বর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দেবাশীষ সরকার।
এদিকে, একই সময় নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সোন্দরপুর ইউনিয়নের মালিপাড়া গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
নিহত সাবিয়া নূর মালিপাড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের মেয়ে। তিনি জেলা সদরের সোনাপুরে একটি ফার্মেসিতে চাকরি করেন।
আব্দুস সাত্তার জানান, প্রতিদিনের মতো সকালে তিনি ফার্মেসিতে যান। স্ত্রী সাবিয়া রান্না করছিলেন। এ সময় ঘরের পাশে খেলছিল সাবিয়া। কিছুক্ষণ পর পুকুরে ভাতের চাল ধোয়ার জন্য গিয়ে মেয়ের নিথর দেহ ভাসতে দেখে চিৎকার করে উঠেন তিনি।
এসময় আশপাশের লোকজন ছুটে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্যকপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।