রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় মারা যাওয়া একটি হাতির শুঁড় ও পায়ের অংশ কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার রাতের কোনো একসময় এ ঘটনা ঘটে। সোমবার সকালে ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট কাচালং শুষ্ক ফাঁড়ির স্টেশন কর্মকর্তা মো. আবদুল কাইয়ুম নিয়াজীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে বন বিভাগ।
প্রাণী অধিকারকর্মী সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘বন বিভাগের জবাবদিহিতা কোথায়? রাঙামাটির লংগদুতে মৃত হাতির পায়ের মাংস ও শুঁড় কেটে নিয়ে গেছে মানুষ। এর চেয়ে ঘৃণিত ঘটনা আর কী হতে পারে? গতকাল শোকার্ত স্ত্রী হাতিটিকে মানুষ প্রচণ্ড উত্যক্ত করলেও সেখানে বন বিভাগ বা ইআরটি টিমের কোনো দায়িত্বশীল উপস্থিতি ছিল না। আর এখন মৃত হাতিটির মাংসও চুরি হয়ে গেল। অথচ এই হাতিকে মহাবিপন্ন প্রজাতি হিসেবে সুরক্ষার জন্য বিশেষায়িত আইন পাস হওয়ার এক মাসও পার হয়নি। কারা এত ক্ষমতাবান যে সরাসরি এসে শুঁড় ও পা কেটে নিয়ে যাচ্ছে? ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে সামর্থ্যের ঘাটতির অজুহাতে এমন স্পর্শকাতর ঘটনা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।’
পিপল ফর এনিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা স্থপতি রাকিবুল হক বলেন, ‘কোনো হাতি মারা গেলে তার ময়নাতদন্ত ও মাটিচাপা দেওয়াসহ সার্বিক দায়িত্ব পালন করবে বন বিভাগ। কিন্তু লংগদুতে আমরা দেখলাম, পুরুষ হাতিটির মাংস ও শুঁড় রাতের আঁধারে কেটে নেওয়া হয়েছে। বন বিভাগ এ দায় এড়াতে পারে না। তাদের উচিত ছিল ময়নাতদন্ত শেষে মাটিচাপা দেওয়া পর্যন্ত ঘটনাস্থলে পাহারার ব্যবস্থা করা। সরকার ও বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রফিকুজ্জামান শাহ বলেন, ‘গত রাতে বৃষ্টি হয়েছিল। সঙ্গে থাকা স্ত্রী হাতিটি সরে যাওয়ার পর দুর্বৃত্তরা মৃত হাতিটির পায়ের মাংস ও শুঁড় কেটে নিয়ে যায়। সকালে ঘটনাস্থলে টিম পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে হাতিটিকে মাটিচাপা দেওয়া হবে। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’
প্রসঙ্গত, রোববার সকালে এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সদস্যরা একটি মৃত হাতির দেহ দেখতে পেয়ে বন বিভাগকে খবর দেন। পরে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ পরিদর্শন করেন।
স্থানীয় ও বন বিভাগের তথ্যমতে, হাতিটি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিল। ২০২৪ সালে প্রথম অসুস্থ হলে বন বিভাগ এবং চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক দল চিকিৎসা দিয়ে তাকে সুস্থ করে তোলে। চলতি বছরেও দুই দফায় অসুস্থ হলে তাকে পুনরায় চিকিৎসা দেওয়া হয়। হাতিটি ওই এলাকার অন্যতম বৃহৎ বয়স্ক হাতিগুলোর একটি ছিল এবং এর আনুমানিক বয়স ছিল ৬৫ বছর।