স্রোত আর গভীরতার ফাঁদে প্রাণ ঝরছে ডাকাতিয়ায়

চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদীতে গোসল করতে গিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েছে। সাঁতার না জানা, নদীর গভীরতা ও তীব্র স্রোত সম্পর্কে ধারণা না থাকায় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন অনেকে। এ অবস্থায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলো চিহ্নিত করে জনসচেতনতা কার্যক্রম শুরু করার আশ্বাস প্রশাসনের।

চাঁদপুর শহরের উত্তর গুণরাজদী আল-আমিন এতিমখানার সুপার ও মসজিদের ইমাম মুফতী মো. শামছুদ্দিন। সম্প্রতি ডাকাতিয়া নদীতে গোসল করতে নেমে ডুবে গিয়ে মারা যান তিনি। চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত এই নদীতে নেমে মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। 

নদীতীরের বাসিন্দারা বলছেন, পদ্মা-মেঘনা-ডাকাতিয়া নদীর মিলনস্থল থেকে প্রথম ৫ কিলোমিটারে গোসল করতে নেমে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় নদীর পানির ওপর নির্ভরশীল এই এলাকার বাসিন্দাদের দিন কাটছে আতঙ্কে। 

গেল ২ বছরে ৩ নদী থেকে প্রায় অর্ধশত মরদেহ উদ্ধার করেছেন ডুবুরিরা। যার মধ্যে ডাকাতিয়া নদীর প্রথম ৫ কিলোমিটারের মধ্যে নিখোঁজের সংখ্যাই বেশি। 

চাঁদপুর নদী স্টেশন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে নদীতে ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা।’

ডাকাতিয়া নদীর বেশি ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলো নির্ধারণ করে জনসচেতনতা কার্যক্রমের পাশাপাশি শিশুদের সাঁতার শেখানোর উদ্যোগের কথা জানালেন জেলা প্রশাসক। 

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, ‘নদীর যেসব এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ তা চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশা জনগণকে সচেতন করতে হবে। এছাড়া যারা সাঁতার জানে না তাদের সাঁতার শেখাতে হবে।’

এই এলাকায় বিকল্প পানির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন নদীতীরের বাসিন্দারা।