ধর্ষণ মামলার আসামি শিবির নেতা বিয়ে এড়াতে আত্মগোপনে ছিলেন: পুলিশ

কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর লাকসাম থেকে উদ্ধার হওয়া ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে মামলা হয়েছে। পুলিশের দাবি, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি; তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। বিয়ে এড়ানোর উদ্দেশ্যেই তিনি আত্মগোপনে গিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করিয়েছিলেন।

শনিবার দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

ভুক্তভোগী নারীর দায়ের করা মামলায় জিসান মিয়া প্রধানকে আসামি করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ মামলায় আরও চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। জিসানসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।

এর আগে শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় জিসানকে উদ্ধার করা হয় বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

জিসান মিয়া ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।

এদিকে জিসানের খোঁজখবর নিতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম। এ সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘জিসান বর্তমানে ডিবি পুলিশের হেফাজতে হাসপাতালে রয়েছেন। তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। বিস্তারিত জেনে পরে জানানো হবে।’

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১১ জুন রাতে জিসান নিখোঁজ হয়েছেন উল্লেখ করে তার চাচাতো ভাই রাসেল আহম্মেদ দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর জেলা পুলিশের একাধিক দল তাকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে।

তদন্তকালে পুলিশ জানতে পারে, কয়েক মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর জিসান তাকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেন। একপর্যায়ে ওষুধ সেবনের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটানো হয়। পরে ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান ১২ জুন বিয়ে করতে সম্মতি দেন। তবে বিয়ে এড়াতে তিনি ১১ জুন রাতেই আত্মগোপনে চলে যান এবং নিখোঁজ হওয়ার নাটক সাজান বলে পুলিশের দাবি।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘আত্মগোপনে যাওয়ার পর জিসান তার চাচাতো ভাইয়ের মাধ্যমে থানায় নিখোঁজের জিডি করান। তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ তার অবস্থান শনাক্ত করে এবং শুক্রবার রাতে লাকসাম এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে।’