শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর পালং এলাকায় এক নারীকে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, খুঁটিতে বেঁধে রাখার আগে তার মাথার চুল কেটে মুখে কালি মাখিয়ে গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেওয়া হয়। শনিবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
পালং মডেল থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর পালং এলাকার বাসিন্দা টুটুল সরদার বর্তমানে লিবিয়াপ্রবাসী। তার স্ত্রী মলি বেগম সন্তানদের নিয়ে এলাকায় বসবাস করেন। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় দেলোয়ার কোটারির পরিবারসহ কয়েকজনকে তিনি টাকা ধার দিয়েছিলেন। সেই টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
শনিবার দেলোয়ার কোটারির স্ত্রী ও মেয়ে উত্তর পালং এলাকার শাবনুর মার্কেটের কাছে মলি বেগমকে আটক করেন। পরে স্থানীয় কয়েকজন নারীকে সঙ্গে নিয়ে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার মাথার চুল কেটে মুখে কালি মাখিয়ে গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর পালং-প্রেমতলা সড়কের পাশে একটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে তাকে বেঁধে রাখা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে অবহিত করেন। পরে পালং মডেল থানা পুলিশ দুপুর ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। আহত অবস্থায় মলি বেগমকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মলি বেগম বলেন, ‘দেলোয়ার কোটারির সঙ্গে আমার টাকা-পয়সার লেনদেন রয়েছে। নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি করে তিনি আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। টাকা ফেরত চাইলে তিনি নানা অজুহাত দিতেন। এক সপ্তাহ আগে আমি টাকা ফেরতের জন্য চাপ দিই। এরপর সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় চলে যাই। ঢাকা থেকে ফিরে আসার পর দেলোয়ারের স্ত্রী ও মেয়ে স্থানীয় কয়েকজনকে নিয়ে আমাকে মারধর করেন। তারা আমার চুল কেটে, মুখে কালি মেখে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখে। আমি এ ঘটনায় মামলা করব।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে দেলোয়ার কোটারির মেয়ে মৌসুমি আক্তার বলেন, ‘মলি বেগম দীর্ঘদিন ধরে আমার বাবাকে উত্ত্যক্ত করতেন। তিনি আমাদের পরিবারে নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করেছেন। এলাকায় মাদক বিক্রির সঙ্গেও তিনি জড়িত। শনিবার মাদক বিক্রির সময় স্থানীয় কয়েকজন নারী তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরে ক্ষুব্ধ লোকজন তাকে মারধর করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। আমাদের কাছে তিনি কোনো টাকা পাবেন না। এখন নিজের অপকর্ম আড়াল করতে মিথ্যা অভিযোগ করছেন।’
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ‘মলি বেগমের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন নারীর টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এর জেরে কয়েকজন নারী তাকে মারধর করে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন। স্থানীয়দের কাছ থেকে ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি আইনগত ব্যবস্থা নিতে চাইলে পুলিশ প্রয়োজনীয় সহায়তা করবে।’



