রাউজানে যুবদল নেতা হত্যায় আলোচনায় ‘রায়হান গ্রুপ’, গ্রেপ্তারে নেই অগ্রগতি

চট্টগ্রামের রাউজানে প্রকাশ্য দিবালোকে যুবদল নেতা মাকসুদুল হক মাসুদ হত্যার অংশ নেওয়া সবাই সন্ত্রাসী রায়হান গ্রুপের সদস্য বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। এরই মধ্যে পাঁচ অস্ত্রধারীর পরিচয়ও শনাক্ত হয়েছে। যদিও এদের ধরার ব্যাপারে খুব একটা অগ্রগতি নেই। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর শক্তিশালী নেটওয়ার্ক, কৌশলী অবস্থান আর প্রভাবশালীদের ছায়ার কাছে অনেকটা অসহায় প্রশাসন-এমন আলোচনা চলছে রাউজান জুড়ে। 

জানা গেছে, ঘটনার সময় সিসিটিভি ফুটেজে যাদেরকে অস্ত্র হাতে দেখা গেছে তারা হলেন- গোলাপী শার্ট পরা দিদার, মাথায় ক্যাপ দেওয়া মোহাম্মদ জাহেদ, কালো জিন্স আর জলপাই রঙের শার্ট পরা মোহাম্মদ ইলিয়াছ প্রকাশ ধামা ইলিয়াছ, পিস্তল হাতে সাদা রঙের প্যান্ট ও কালো টি-শার্ট পরা ইউছুপ ও শর্ট গান হাতে তার পেছনে ছিলেন আবছার। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের প্রত্যেকেই শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান আলমের কিলার স্কোয়াড। 

হত্যাকাণ্ডের দুইদিন পর মঙ্গলবার রায়হানকে প্রধান আসামি ও বাকিদের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত মাসুদের বড় ভাই। তবে ঘটনার পর থেকে একাধিক অভিযান চালিয়ে তাদের কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। 

সন্ত্রাসী রায়হানের এই গ্রুপটি শুধু রাউজান নয়, গেল বছর চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলিসহ একাধিক খুনের ঘটনায় সম্পৃক্ত। দুর্ধর্ষ এই বাহিনী প্রতিবারই তাদের মিশন শেষ করে রাউজানের দুর্গম এলাকায় গিয়ে আশ্রয় নেয়। তাদেরকে ধরতে না পারার পেছনে ভৌগলিক সীমাবদ্ধতাকেই কারণ হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। 

গত আড়াই বছরে রাউজানে একের পর এক হত্যাকাণ্ডে প্রাণ গেছে ২৫ জনের। ঘটনার পর মামলা হলেও, আসামিদের নাগাল পায় না পুলিশ। এক্ষেত্রে প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাবকেই দায়ী করছে স্থানীয় এলাকাবাসী ও রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা। 

স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা কোনো মাস্ক পড়েনি। সবাইকে দেখা যাচ্ছে, তারপরেও যদি তাদের গ্রেপ্তার করতে না পারে তাহলে এটা সরকারের ব্যর্থতা।’

আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘যেখানে এমপি সাহেবের পাশাপাশি যিনি ছিলেন তার নিরাপত্তা নেই, সেখানে আমাদের নিরাপত্তা আমরা কীভাবে দেব।’

রাউজান উপজেলা যুবদলের সভাপতি এম শাহজাহান সাহিল বলেন, ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ড যদি বেশি হচ্ছে ততবেশি রাউজানের প্রতি সারা দেশে খারাপ ধারণ পাচ্ছে দেশবাসী। পুলিশের যে লোকবল পর্যাপ্ত বলে মনে হচ্ছে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটার আগেই তারা কেন তথ্য পাচ্ছে না।’

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, ‘এই এলাকায় এ ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম যারা করে থাকে তারা প্রকৃতিকভাবে কিছু সুবিধা পেয়ে থাকে। এই সুবিধাটাকে তারা ব্যবহার করতেছে। আমরা তাদের সবাইকে শনাক্ত করেছি। তারা সবাই ওই এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং এরা বিভিন্ন সময় আমাদের কাছে ধরা পড়েছে, পরে আবার জামিনে বের হয়ে আসছে। 

গত ১৩ জুন দুপুরে রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণ হারান রাঙ্গুনিয়া যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক মাসুদ। দুবাইয়ে পলাতক দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের নির্দেশে রায়হান বাহিনীর ক্যাডাররা এই খুন করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।