চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণ মামলায় ডেকোরেটর কর্মীর যাবজ্জীবন

চট্টগ্রামের চাঞ্চল্যকর বাকলিয়া শিশু ধর্ষণ মামলায় একমাত্র আসামি ডেকোরেটর কর্মী মনির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অভিযোগ  গঠনের ৮ কার্যদিবসের মধ্যে আজ চট্টগ্রাম শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা জুমা এ রায় ঘোষণা করেন। এদিকে অন্য একটি রায়ে, ২০২২ সালে ইপিজেড এলাকায় শিশু আয়াতকে হত্যা করে লাশ ছয় টুকরা করে গুমের দায়ে মামলায় আসামি আবীর আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।  

সকালে পুলিশ প্রহরায় চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণের আসামি মনির হোসেনকে হাজির করা হয় চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে। সকাল ১১টায় রায় ঘোষণার কথা থাকলেও, পরে আদালতে দুপুর ২টায় তা নির্ধারণ করে।

পরে ২টার শুরু হয় আদালত। প্রায় এক ঘণ্টা রায় পড়া শেষে বিকেল ৩টার দিকে রায় চট্টগ্রাম শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা মনির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয় আসামিকে। আসামির পূর্বের অপরাধ না থাকায় এ সাজা দেওয়া হয় বলে আদালত জানান। 

অভিযোগ গঠনের মাত্র ৮ দিনে এ মামলার বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। তবে আসামির ফাঁসি না হওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেন ভিকটিমের স্বজনরা। 
 
শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি মাহমুদ উল আলম চৌধুরী বলেন, ‘মামলাটির তদন্ত দ্রুত শেষ করে ঘটনার মাত্র ১৪ দিনের মাথায়, গত ৪ জুন পুলিশ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। ৯ জুন আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত।’ 

তবে এ রায়ের বিরুদ্ধে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা পেলেও, উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছে আসামি পক্ষে রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবী। 

রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী জিএম জাহেদ হোসেন বলেন, ‘আমরা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।’

গত ২১ মে বাকলিয়ায় এ শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। 

এর আগে চট্টগ্রামের ইপিজেড এলাকায় ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর শিশু আয়াতকে হত্যা করে ৬ টুকরা করে গুমের ঘটনায় আসামি আবির আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে অতিরিক্ত ষষ্ঠ মহানগর দায়রা জজ আদালত। একই দিন বেলা ১২ টায় এ রায় দেওয়া হয়। আদালত রায়ে এ ঘটনাকে নির্মম, নিষ্ঠুর ও নৃশংস বলে জানান। এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি জানান আয়াতের মা ও বাবা।  

একই দিনে গুরত্বপূর্ণ দুই মামলার রায় চট্টগ্রামের আইন অঙ্গনে দিনভর আলোচনায় ছিল।