মহাবিপন্ন হলুদ কাছিমের পাঁচটি বাচ্চা যুক্ত হয়েছে চট্টগ্রামের চিড়িয়াখানায়। ফলে, এ প্রজাতির মোট প্রাণীর সংখ্যা হলো ১৬টি। চিড়িয়াখানার কর্তৃপক্ষ বলছে, ডিম ফুটে বের হওয়ার পর কাছিমের বাচ্চাগুলোকে বিশেষ যত্নে রাখা হয়েছে। একটু বড় হলে, তাদের পিঠে ট্রান্সমিটার লাগিয়ে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।
একসময় চট্টগ্রাম, সিলেট, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটান ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন অঞ্চলে হলুদ কাছিমের প্রচুর দেখা মিলতো। কিন্তু দিন দিনই কমছে তাদের সংখ্যা। এমনকী আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা আইইউসিএনের তথ্য অনুযায়ী, দশ বছরের মধ্যে এই প্রজাতিটি পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় এই প্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধিকে বেশ বড় সাফল্য হিসাবে দেখা হচ্ছে। নতুন পাঁচটি ফুটফুটে ছানাসহ ১৬টি মহাবিপন্ন হলুদ কাছিম দেখে খুশি দর্শনার্থীরাও।
২০০৮ সালে আটটি হলুদ কাছিম নিয়ে সংরক্ষণ কার্যক্রম শুরু করে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। ২০২৩ সালে তিনটি বাচ্চা জন্ম দেয় কাছিমগুলো। সর্বশেষ গত ৬ জুন সাতটি ডিমের মধ্যে পাঁচটি থেকে সফলভাবে বাচ্চা ফুটেছে। বিশ্বব্যাপী প্রজাতিটি মহাবিপন্ন হওয়ায় তাদের জন্য বিশেষ আবাসস্থল তৈরি করে নিবিড় পরিচর্যা করা হয়।
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ভেটেরেনারি কর্মকর্তা ডা. মো. সারোয়ার উদ্দিন বলেন, ‘একসময় বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, সিলেট, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটান, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে ব্যাপকহারে ছিল এই কাছিম। এখন থেকেই সংরক্ষণ করা না গেলে আগামী দশবছরের মধ্যে এই প্রজাতির কাছিম বিলুপ্তি হয়ে যেতে পারে।’
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ বলেন, ‘সারাবিশ্বে প্রতিনিয়ত কমছে এর সংখ্যা। তাই বিশেষ যত্নে তাদের বাঁচিয়ে তোলার চেষ্টায় করছি। সুযোগ বুঝে এদের গায়ে ট্রান্সমিটার বসিয়ে পাহাড়ে ছাড়ার ইচ্ছে আছে।’
নতুন বাচ্চাগুলোকে বিশেষ পরিচর্যায় রেখেছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।