নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষ্যা ইউনিয়নে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় কাউছার মিয়া নামে আরও এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার বিকেলে মাধবদী থানার চরদিঘলদী ইউনিয়নের জিৎরামপুর গ্রামসংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিনজনে।
নিহত কাউছার মিয়া নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের শাহ আলম মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাউছার মিয়াকে টেঁটাবিদ্ধ করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পরে পানির স্রোতে ভেসে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে তার মরদেহ ভেসে ওঠে।
মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, ‘টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি রায়পুরা থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা রায়পুরা থানা-পুলিশ গ্রহণ করবে।’
এর আগে মঙ্গলবার সংঘর্ষের ঘটনায় নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের সোনাকান্দি এলাকার হরজু মিয়ার ছেলে বুলবুল মিয়া এবং পূর্বপাড়া এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য ওসমান মিয়ার ছেলে অনিক মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার ভোরে নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের দড়িগাঁও এলাকায় স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য জবা মিয়া ও মিস্টার গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
পুলিশ জানায়, মিস্টার গ্রুপের মামুন নামে এক প্রবাসী নিহত হওয়ার পর হত্যা মামলার আসামি জবা মিয়া, আলাল মুন্সিসহ তাদের গ্রুপের সদস্যরা দীর্ঘদিন এলাকা ছাড়া ছিলেন। পরে তারা কয়েক দফায় ভাড়াটে অস্ত্রধারীদের নিয়ে এলাকায় পুনরায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। মঙ্গলবার ভোরে আলাল মুন্সি ও সাবেক ইউপি সদস্য জবা মিয়ার অনুসারীরা স্পিডবোটে করে ভাড়াটে অস্ত্রধারীদের নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করলে প্রতিপক্ষের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষ দ্রুত হরিপুর ও দড়িগাঁও এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক দফায় সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে দুজনের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।



