৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে সড়কে ধস, জলাবদ্ধতাসহ চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী। তৈরি হয়েছে পাহাড় ধসের শংকা। আগামী ২৪ ঘন্টাতেও ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। পাশাপাশি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সর্তক সংকেত জারি করা হয়েছে। এদিকে, খাল পরিষ্কার থাকায় রেকর্ড বৃষ্টিতেও জলাবদ্ধতার মাত্রা কম, দাবি সিটি কর্পোরেশনের।
রেকর্ড ভাঙ্গা বৃষ্টিতে ডুবে গেছে বন্দর নগরী চট্টগ্রাম। মঙ্গলবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত রেকর্ড হয়েছে ৩৮৬.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত। বিভিন্ন এলাকা ও প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী। এর আগে ১৯৮৬ সালে মহানগরীতে একদিনে সর্বোচ্চ ৩৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়।
ভারী বৃষ্টিপাতে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন নির্মাণাধীন সড়কের একপাশ ধসে পড়েছে। এতে টানেল ও এয়ারপোর্টমুখী আউটার রিং রোডে যান চলাচল কিছুটা ব্যাহত হয়।
এদিকে, সকাল থেকে নগরীর পাঁচলাইশ, আগ্রাবাদ, হালিশহর, রামপুর, চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর পানি। বাড়িঘর ও দোকানপাটে ঢুকেছে পানি। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের পরেও এমন ভোগান্তিতে ক্ষুব্ধ নগরবাসী।
সিডিএ জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহসিনুল হক চৌধুরী বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে মাঠে রয়েছে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের ১৬টি টিম। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৯৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ৩৬টি খালের মধ্যে ২টি খালের কাজ বর্ষা মৌসুমের পর শেষ হবে। এ প্রকল্পের কাজ শেষ হলে জলাবদ্ধতা মুক্ত হবে নগরবাসী। তিন দিনের রেকর্ড বৃষ্টিতে যতটা জলাবদ্ধতা হওয়ার কথা তা হয়নি। এরপরেও যেখানে জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে সেনাবাহিনীর ১৬টিম একযোগে কাজ করছে।’
এ বিষয়ে সিটি মেয়র বলছেন, খালগুলো পরিষ্কার থাকায় রেকর্ড বৃষ্টির পরেও দ্রুত পানি নামছে। সেসব স্থানে পানি আটকে আছে, সেখানে কাজ করছে সেবা সংস্থাগুলো। তবে কিছু এলাকার খাল এখনও সংস্কার না হওয়ায় পুরোপুরি ভোগান্তি কমেনি।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ শুরু হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। যে কোনো দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবেলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। পাশাপাশি কুইক রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীরা ঘর বাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে আগ্রহী নয় বলে শংকা বেড়েছে। তারপরও তাঁদের বুঝিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে।’
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় নগরীর টাইগারপাস এলাকায় সড়কে উপড়ে পড়েছে বেশ কিছু গাছ। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পাহাড় ধসে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে সিটি কর্পোরেশন।