দীঘিনালায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়ছে মানুষ 

খাগড়াছড়িতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। দীঘিনালার নিচু এলাকা থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। এর ফলে আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে অনেকে নিজেদের ঘরে ফিরতে শুরু করেছে।

আজ শনিবার সকাল মাইনী নদীর পানি কমে যাওয়ায় এরই মধ্যে বিভিন্ন নিচু এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। যারা আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে তাদের অনেকেই বাড়ি ঘরে ফিরে গেছে। দিঘিনালা মেরুং বাজার থেকে পানি অনেকটাই নিচে কমে গেছে। ধীরে ধীরে বাজারের পানি কমে যাওয়ায় সবকিছু স্বাভাবিক হচ্ছে।

প্রায় চার দিন বন্ধ থাকার পর দীঘিনালা-লংগদু সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। হেডকোয়ার্টার এলাকা থেকে পানি কমে যাওয়ার কারণে বিকেলে মধ্যে যান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মেরুং বাজারে স্থানীয় ব্যবসায়ী হাসনাত আব্দুল হাই বলেন, ‘গত তিন দিন ধরে মেরুং বাজার পানির নিচে ছিল। তবে শনিবার সকাল থেকে বৃষ্টিপাত কম হওয়ার কারণে এবং মাইনী নদীর পানি কমে যাওয়ার কারণে বাজারের পানি অনেকটাই নেমে গেছে।’

বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নেমা যাওয়া ঘরে ফিরছে মানুষ। ছবি: ইনডিপেনডেন্টমেরু ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য সমীরণ চাকমা বলেন, ‘গতকাল রাত থেকে পানি কমতে শুরু করেছে এবং সকাল বেলা পানি আরও কমেছে। ফলে বন্যা দুর্গত মানুষ ঘরবাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে। ধীরে ধীরে বন্যা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে।’ 

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ বলেন, ‘বন্যায় উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মেরুং ইউনিয়ন। এর মধ্যে এখন যারা আশ্রয় নিয়েছিল, তাদের অধিকাংশ ঘরবাড়িতে ফিরে গেছে। এখন নিজেদের ঘরবাড়ি পরিষ্কার করছে, তাদের বসবাসের উপযোগী করছে। এখন সবমিলিয়ে দেড়শ পরিবারের একজন করে সদস্য আশ্রয় কেন্দ্রে আছে। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।’

অন্যদিকে চেঙ্গী নদীর পানি কমে যাওয়ায় খাগড়াছড়ি শহরের অধিকাংশ এলাকা থেকে পানি সরে গেছে। তবে নিচু এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা রয়েছে। বন্যায় কৃষিজমি, সবজিখেত ও পুকুরের মাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, ‘বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ৪০০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে। বন্যা দুর্গত একজন মানুষও যাতে ত্রাণ সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয় আমরা সেভাবে কাজ করছি।’