এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র নিজে মূল্যায়ন না করে নিজের ছাত্রকে দিয়ে খাতা দেখানোর অভিযোগে কুমিল্লার দেবিদ্বারে এক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও তাঁর এক ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মামলা দায়ের হলে শনিবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ রোববার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেবিদ্বার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ের উত্তরপত্র একজন পরীক্ষক নিজে মূল্যায়ন না করে তাঁর এক ছাত্রকে দিয়ে মূল্যায়ন করাচ্ছেন।
পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়া কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার আব্দুল্লাহপুর হাজী আমির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক এবং বর্তমানে বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ভিডিওতে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতে দেখা যাওয়া তরুণটি একই বিদ্যালয়ের ছাত্র মেহেদী হাসান।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। পাবলিক পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় এমন অনিয়মের সত্যতা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নির্দেশে বিষয়টি তদন্ত করা হয়। তদন্তের পর শনিবার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লার উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়া ও ছাত্র মেহেদী হাসানকে আসামি করা হয়।
উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পাপিয়া আক্তার জানান, মামলা দায়েরের পর শনিবার রাতেই দেবিদ্বার থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই পদে যিনি থাকবেন তিনিই মামলার বাদী হবেন।
দেবিদ্বার থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষে কুমিল্লা আদালতে পাঠানো হবে।