নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে, চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের পানি নামতে দেরি হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির জন্য একেই সবচেয়ে বড় কারণ বলছেন আবহাওয়াবিদরা। তাদের মতে, নিম্নচাপ আর মৌসুমী বায়ুর প্রভাব, অনেকটা ক্লাউড-বার্স্টের মতোই প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া সাগরের উত্তাপ বেশি থাকায়, বাতাসের অতি-আদ্রতা, ভারী বৃষ্টির জন্য স্ফূলিঙ্গের মতো কাজ করেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, সর্বশেষ ১৯৮৩ সালে চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছিল ৪০৭ মিলিমিটার। তবে এবার ৬ থেকে ৭ জুলাই ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ৪১২ মিলিমিটার। পুরো জুলাই মাসে এ অঞ্চলে গড়ে ৭০০ মিলিমিটার বৃষ্টির রেকর্ড থাকলেও, এবার ৪ থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত ৫ দিনেই বৃষ্টি ঝরেছে প্রায় ১৫০০ মিলিমিটার।
চট্টগ্রাম আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রহমান খান বলেন, ‘২০২৪ সালে কুমিল্লা ও ফেনী অঞ্চলে ক্লাউড-বার্স্ট বা মেঘভাঙা বৃষ্টির ঘটনা ঘটলেও এবার চট্টগ্রামে তেমনটা হয়নি। বরং মৌসুমী বায়ু এবং নিম্নচাপের মিলিত প্রভাব কাজ করেছে বেশি। ভারী বৃষ্টির সাথে পাহাড়ের ঢলে, দ্রুত পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। এরসঙ্গে পানি নিষ্কাশনের দুর্বল ব্যবস্থাপনা তো রয়েছেই।’
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উত্তাপ বেশি থাকায় বাষ্পীভবনের কারণে বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণও বেড়েছিল।
এবারের বন্যায় চট্টগ্রামের ৭ উপজেলার দুই শতাধিক ইউনিয়নে পানিবন্দী হয়েছে অন্তত দুই লাখ পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার বাড়ি, ১৩০০ কিলোমিটার সড়ক, ১৪৫টি সেতু ও কালভার্ট।