নর্দমায় উদ্ধার হাজারের বেশি গুলির রহস্যের জট খুলল

নালা পরিষ্কার করতে গিয়ে ১ হাজার ৩২০টি গুলি দেখে চমকে উঠে সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা। মুহুর্তে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। পরে জানা গেলো, এগুলো তাজা গুলি নয়। সামরিক বাহিনীর ভারী অস্ত্রের ব্যবহৃত গুলির খোসা। কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ খোসা নালায় এলো, তা জানতে তদন্ত করছে পুলিশ। এই ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রামে।  

দেখতে অবিকল বুলেট। তবে এগুলো আর ব্যবহারের উপযোগী নয়। চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজীদ থানার শেরশাহ বাংলাবাজার এলাকার একটি নালা থেকে উদ্ধার হয়েছে মোট ১ হাজার ৩২০টি গুলির খোসা। 

উদ্ধার করা খোসাগুলোর মধ্যে বড় আকারের ১২০টি এবং ১ হাজার ২০০টির আকার ছোট ও মাঝারি। গত শনিবার সকালে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের সময় এগুলো দেখতে পান সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে খোসাগুলো জব্দ করে পুলিশ।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘পুলিশ, আর্মিসহ অন্যান্য বাহিনীর ফায়ারিং প্রাকটিসের যে খোসা সেগুলো পাওয়া গেছে ওইখানে। তাজা গুলি কোনোটাই পাওয়া যায়নি। যেহেতু এগুলো তামা, সেহেতু টোকাই বা অন্য যে কেউ এগুলো খুঁজে বের করে একত্রিত করেছে বিক্রি করার জন্য। সেটি না পেরে হয়তো ফেলে দিয়েছে।’ 

একসঙ্গে এত বিপুল পরিমাণ গুলির খোসা উদ্ধারের ঘটনায় শুরুতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, এগুলো কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মজুত করা গুলি নয়, বরং সামরিক বাহিনীর ভারী অস্ত্রের ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়া গুলির খোসা।

চট্টগ্রাম বায়েজীদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম বলেন, ‘ফায়ারিং রেঞ্জ থেকে লোকজন হয়তো এগুলো সংগ্রহ করে বিক্রির জন্য।’

এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ‘আশেপাশে হয়তো কোনো রেঞ্জ নাই। এগুলো পাওয়া গেছে নালা থেকে।’

এ ঘটনায় বায়েজীদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।