‘গ্যাসের শহরে’ চাহিদার ৩ ভাগের একভাগও সরবরাহ নেই

গ্যাসের শহর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়ই গ্যাসের জন্য হাহাকার চলছে। গত তিনদিন ধরে জেলা শহরে প্রকট হয়ে উঠেছে গ্যাস সঙ্কট। পাইপলাইনে চাহিদার ৩ ভাগের একভাগ গ্যাস সরবরাহও নেই। গত বুধবার থেকে দেশের অন্যান্য জায়গার মতো এখানেও গ্যাসের সরবরাহ কমে আসে। আজ শুক্রবার সরবরাহ আরও কমেছে। ফলে বাসাবাড়িতে জ্বলছেনা চুলা। বন্ধ রয়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশন।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড সূত্র জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর ছাড়াও সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলায় তাদের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ হয়। এসব এলাকায় প্রায় ২৩ হাজার বৈধ গ্রাহক রয়েছে। এরমধ্যে ১৭টি শিল্পকারখানা, ৫টি সিএনজি স্টেশন এবং ৪/৫'শ হোটেল–রেস্টুরেন্ট ছাড়া বাকি সবই আবাসিক সংযোগ। এসব সংযোগে ৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ মিলছে এখন মাত্র ৩ মিলিয়ন ঘনফুটেরও কম। 

গতকাল বৃহস্পতিবার ৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ থাকলেও আজ শুক্রবার তা কমে ৩ মিলিয়ন ঘনফুটের নিচে নেমে এসেছে বলেও জানায় সংস্থাটি। 

ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল বিশ্বরোড এলাকার ফাহাদ ফিলিং স্টেশনের সুপারভাইজার মামুন মোল্লা জানান, গত বুধবার সকাল থেকে তাদের সিএনজি ষ্টেশন বন্ধ রয়েছে। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দাতিয়ারা এলাকার গৃহিণী আকলিমা আক্তার জানান, বুধবার সকাল ১০টায় গ্যাস চলে যায়। এরপর বিকেলে গ্যাস পাওয়া যায়। বৃহস্পতিবার সারাদিন গ্যাস ছিলে না। রাত ১০টায় আসে। আর আজ সকাল থেকে গ্যাস নেই।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ওয়েবসাইটে এজন্য দুঃখ প্রকাশ করে দেওয়া জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, 'বঙ্গোপসাগরে বিরাজমান প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এলএনজি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহকৃত গ্যাসের স্বল্পচাপ ও স্বল্পতা বিরাজ করছে। গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে।'

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের উপ–মহাব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম জানান, বুধবার থেকে গ্যাস সরবরাহ কমেছে। কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে তা বলতে পারছি না।  

অন্য সুত্র জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বৈধ গ্রাহকের দ্বিগুন অবৈধ গ্রাহক রয়েছে। তাছাড়া বৈধ সংযোগগুলো পুরোনো হওয়ায় লিকেজেও অপচয় হচ্ছে অনেক গ্যাস। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর ও আশপাশের এলাকায় দেশের বৃহৎ গ্যাস ক্ষেত্র তিতাসের ২৪টি কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৩'শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হয়। যা জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ হচ্ছে। এছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়াস্থ বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) কুমিল্লার বাখরাবাদ, হবিগঞ্জ, নরসিংদী, মেঘনা, কামতা গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। 

বন্ধ সব সিএনজি স্টেশন
গ্যাস সংকটে বন্ধ রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সবকটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন। গত বুধবার  থেকে জেলার ৫টি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ সীমিত করে দেয় বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার রাত থেকে পুরোপুরিভাবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় এসব স্টেশনে। মূলত গ্যাস সরবরাহ বন্ধের আগে জেলার ৫টি ফিলিং স্টেশনে প্রতিদিন ৫০ হাজার ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ করত বাখরাবাদ। যদিও চাহিদা রয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। 

তবে সংকটের কারণে গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ ছিল কম। সাধারণত ১৫ পিএসআই চাপে গ্যাস সরবরাহের কথা থাকলেও ৩-৪ পিএসআই চাপে গ্যাস সরবরাহ করা হতো। সর্বশেষ গত বুধবার থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ আরও কমিয়ে দেয় বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কর্তৃপক্ষ। এরপর  বৃহস্পতিবার রাত থেকে পুরোপুরি সরবরাহ বন্ধের কারণে ফিলিং স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, গ্যাসের অভাবে সড়ক-মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশার চলাচল কমে গেছে। এলপিজি সিলিন্ডার দিয়ে স্বল্প সংখ্যক অটোরিকশা চললেও ভাড়া নিচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরাও।

আবুল কাশেম নামে এ যাত্রী জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কুমারশীল মোড় থেকে নন্দনপুর বিসিক শিল্পনগরীতে যাওয়ার জন্য একঘণ্টা অপেক্ষা করার পর একটি সিএনজি অটোরিকশা পান। তবে তার কাছে ভাড়া চাওয়া হয় ৮০ টাকা। যদিও নিয়মিত ভাড়া ৪০ টাকা। পরে দরকষাকষি করে ৭০ টাকায় রাজি করান অটোরিকশা চালককে।