শিপইয়ার্ডে গ্যাসের বিষক্রিয়া: তদন্তে দুই কমিটি, ৮ মরদেহ হস্তান্তর

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ভাটিয়ারিতে শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে গ্যাস বিষক্রিয়ায় ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। চলছে দুর্ঘটনা কবলিত জাহাজের গ্যাস অপসারণের কাজ। 

শনিবার সকালে দুর্ঘটনা কবলিত শিপ ইয়ার্ডটি পরিদর্শন করে শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান জানান, অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে ১১ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে জেলা প্রশাসন ৯ সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে কারো অবহেলা পাওয়া গেলে সেটিও খতিয়ে দেখা হবে। দুর্ঘটনা কবলিত জাহাজটিতে স্বাভাবিকের চেয়ে মাত্রাতিরিক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড পেয়েছে বিস্ফোরক অধিদপ্তর। 

এদিকে, নিহত ৯ জনের মধ্যে ৮ জনের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

এদিকে, সীতাকুণ্ডের শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে একসঙ্গে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় আবারও সামনে এসেছে নিরাপত্তার ভয়াবহ চিত্র। মেয়াদ শেষ হওয়া একটি জাহাজ কাটতে গিয়ে বিষক্রিয়ায় প্রাণ হারিয়েছেন তারা। মাত্র কিছু দিন আগেই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকায় ফেরদৌস শিপ ইয়ার্ডের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা। এরপরও কেন ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম বন্ধ হয়নি- তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
 
২৫ বছরের পুরনো জাহাজ এমটি রাসি। ২৮০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৪৩ মিটার প্রস্থের জাহাজটি এলএনজি পরিবহনে ব্যবহার হতো। গত বছরের জুলাইয়ে এটি আনা হয় সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ ইয়ার্ডে। প্রায় ১ বছর ধরে জাহাজটি কাটা হচ্ছিল। শুক্রবার কাজের সময় বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয় কর্মরত শ্রমিকদের।

এত প্রাণহানির পর প্রশ্ন উঠেছে ইয়ার্ড ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। গ্রিন সনদ পাওয়া ফেরদৌস শিপ ইয়ার্ডের নিরাপত্তা ত্রুটি খুঁজে পায় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর। গত মাসে শ্রম আদালতে মামলাও হয় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। 

শ্রমিকদের অভিযোগ, নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে ছুটির দিনে জোর করে কাজ করানোর কারণেই এত প্রাণহানি।

প্রতিষ্ঠানটির সব নিরাপত্তা সনদ ও ছাড়পত্র নেওয়া ছিল বলে দাবি শিপ ব্রেকিং আ্যাসোসিয়েশনের নেতার। দুর্ঘটনায় শ্রমিক-মালিক দুইপক্ষের দায় রয়েছে বলেও মত তার। 

সীতাকুণ্ডে শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডগুলোতে ৩ বছরে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১৮ জনের।