পেশাগত সমন্বয়হীনতা ও বিভিন্ন অসন্তোষের অভিযোগে চাঁদপুরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো তিনটি আদালত বর্জন করেছেন জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা।
বর্জন করা আদালতগুলো হলো—চাঁদপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এবং সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালত।
আইনজীবীদের অনুপস্থিতির কারণে নির্ধারিত দিনে মামলার শুনানি না হওয়ায় দূরদূরান্ত থেকে আসা বিচারপ্রার্থীরা চরম ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
কচুয়া থেকে আদালত প্রাঙ্গণে আসা এক বিচারপ্রার্থী জানান, তার একটি দেওয়ানি মামলার শুনানির তারিখ ছিল। কিন্তু আদালত বর্জনের কারণে শুনানি হয়নি। এতে তিনি ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন।
আরেক বিচারপ্রার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গত দুই বছর ধরে তার দেওয়ানি মামলা চলছে। এর মধ্যে বিচারক অনুপস্থিত থাকা এবং আইনজীবীদের আদালত বর্জনের কারণে নির্ধারিত দিনে মামলার শুনানি হয়নি। এতে তিনি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি করেন।
চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. শামসুল ইসলাম মন্টু অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বার ও বেঞ্চের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে অনেক আইনজীবী নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের একরোখা আচরণ এবং আইনজীবীদের বিভিন্ন অভিযোগ আমলে না নেওয়ার কারণে আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বার ও বেঞ্চের মধ্যে সমন্বয়হীনতা নিয়ে তারা একাধিকবার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তবে তাদের অভিযোগ ও দাবির বিষয়ে কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। এ অবস্থায় আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের স্বার্থে তারা আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কোহিনূর বেগম বলেন, বিষয়গুলো সমাধানের জন্য চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও জিপিসহ তারা একাধিকবার সংশ্লিষ্ট আদালতের সঙ্গে আলোচনা করার চেষ্টা করেছেন। তবে কোনো সমাধান হয়নি।
তিনি বলেন, গত ৯ সেপ্টেম্বর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ৪০০ আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন এবং ৩৫ থেকে ৪০ জন আইনজীবী বক্তব্য দেন। সভায় আদালতে আইনজীবীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া আদালত অঙ্গনে পেশকার, জিআরও ও সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। অবৈধ লেনদেন থেকে আইনজীবী, আইনজীবী সহকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
অ্যাডভোকেট কোহিনূর বেগম আরও বলেন, সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালত, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এবং সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর বর্জন কর্মসূচি আপাতত চলবে। পরবর্তী সাধারণ সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, আদালত বর্জন কর্মসূচির কোনো আইনগত ভিত্তি নেই বলে দাবি করেছে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানানো হয়েছে। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।