নৌকা চালিয়ে শিক্ষকদের বেতন জোগাড় করা বান্দরবানের থানচির তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি সরকারি করা হয়েছে। গত জুলাই মাসে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হয়। থানচি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ে অবস্থিত তিন্দু সরকারি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে আছে ৫৬ শিক্ষার্থী। নানা প্রতিকূলতার মাঝেও প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন স্কুলটি টিকিয়ে রাখেন।
থানচি উপজেলার দুর্গম তিন্দু এলাকায় ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। স্কুলের ৫৬ জন শিক্ষার্থীর অধিকাংশই নিয়মিত বেতন দিতে পারে না। তাই শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ নিয়ে চলছিল সংকট।
প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন ছুটির দিনগুলোতে সাঙ্গু নদীতে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালিয়ে যোগাতেন স্কুলের বেতন। গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে মোট ৪০ হাজার টাকা আয় থেকে ৩০ হাজার টাকায় স্কুলের কর্মীদের বেতনে দেন তিনি।
স্কুলটি টিকিয়ে রাখতে প্রধান শিক্ষকের এই নিঃস্বার্থ ত্যাগের কথা গণমাধ্যমে আসলে তা দেশজুড়ে প্রশংসিত হয়। এর পর বিদ্যালয়ের জন্য একটি বোট, নতুন ভবন নির্মাণ এবং ছাত্রাবাস সংস্কারের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় প্রশাসন। সরকারিকরণের ফলে স্কুলের বেশিরভাগ সংকট কেটে যাওয়ায় খুশি শিক্ষার্থীরা।
ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী থংয়া খুমী বলেন, ‘আমি এ বছর ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছি। এর মধ্যে স্কুল সরকারিকরণের ঘোষণা দিয়েছে। এখন থেকে আমরা অনেক সুযোগ–সুবিধা পাব।’
সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিবেত ম্রো বলেন, ‘এই স্কুল জাতীয়করণের ফলে টিচাররাও ভালোভাবে পড়াতে পারবেন। আমরাও মনোযোগ দিয়ে ভালোভাবে পড়তে পারব।’
স্কুলটি সরকারি ব্যবস্থাপনায় আসায় অভিভাবক ও শিক্ষকদের মাঝেও ফিরেছে স্বস্তি।
থানচির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন, ‘বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের ফলে তিন্দু-রেমাক্রীর শিক্ষার মান ও পাসের হার বাড়বে বলে আশা করি।’
দুর্গম তিন্দুরে শিক্ষার আলো জ্বেলেছিলেন প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় সেই আলো ছড়িয়ে পড়বে পাহাড়ে পাহাড়ে, এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।