কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যায় জড়িত তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল নামের তিন তরুণ। তারা ৩ জন মিলে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে অপ্রতিমকে হত্যা করে। হত্যায় সরাসরি জড়িত থাকায় তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সিয়াম নামে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান প্রেস ব্রিফিংয়ে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের এসব তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, অপ্রতিমের হাতে থাকা আইফোনটি ছিনিয়ে নিতে তাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল। অপ্রতিমের হাত থেকে আইফোনটি ছিনিয়ে নিতে তুহিনের পরিকল্পনা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুক্রবার তুহিন অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকায় জঙ্গলে নিয়ে যান। সেখানে অপ্রতিমের কাছে থাকা আইফোনটি ছিনিয়ে নিতে চাইলে সে বাধা দেয় এবং ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় অপ্রতিমের।
পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের জিডি ধরে তদন্ত শুরু করে। তদন্ত করতে গিয়ে দেখা যায়, গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও মো. কামরুল হাসানের (১৮) সঙ্গে অপ্রতিমের যোগাযোগ ও চলাফেরা ছিল। অপ্রতিম শুধু গত শুক্রবারই নয়, প্রায়ই মায়ের আইফোন নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে ঘুরতে, ছবি তুলতে এবং আড্ডা দিতে বের হতো।
পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেপ্তার তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আইফোনটি সন্ধান করেন তারা। প্রথমে ভুল তথ্য দেন তুহিন। পরে ঠিক তথ্য দিলে তুহিনের বাসা থেকে আইফোনটি উদ্ধার করা হয়। আইফোনের জন্যই এই হত্যাকাণ্ড বলে জানা গেছে। তবে এর পেছনে আরও কোনো ঘটনা আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হবে।
গত শুক্রবার বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। রাত পর্যন্ত অপ্রতিম বাসায় না ফেরায় তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। নিখোঁজের পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন সানন্দা এলাকায় একটি ঝোপ থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার পেশায় ব্যবসায়ী। অপ্রতিম কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তুহিনকে প্রথমে আটক করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ ও কামরুলসহ মোট তিনজনকে আটক করা হয়।
এদিকে রোববার সকাল ১০টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীসহ মানুষের ঢল নামে। পরে সেখান থেকে অপ্রতিমের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কোটবাড়ি গন্ধমতি ঈদগাহ মাঠে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে বাড়ির পাশের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।