চাঁদপুর সদরে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের প্রায় ৫ টন সরকারি চাল ট্রাকে করে পাচারের সময় জব্দ করেছে প্রশাসন। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে এবং এর সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শহরের বিপণীবাগ মোড় এলাকা থেকে চালভর্তি ট্রাকটি আটক করা হয়।
অভিযানের বিষয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাশেম বলেন, 'জেলা প্রশাসক স্যার এবং সদর ইউএনও স্যারের ফোন পেয়ে আমরা জানতে পারি যে, জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি চালের একটি চালান চাঁদপুর জেলার বাইরে পাচার করা হচ্ছে। সংবাদ পাওয়ার পরপরই আমরা ট্রেস করা শুরু করি। পরবর্তীতে বিপণীবাগের সামনে এসে ট্রাকটি আটক করতে সমর্থ হই।'
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, চালবাহী ট্রাকটি আলীগঞ্জ হয়ে লাকসামের দিকে যাচ্ছিল। আটককৃত ট্রাকটিতে থাকা স্লিপে ৪ হাজার ৯৩০ (প্রায় ৫ টন) চালের উল্লেখ রয়েছে। বস্তা গণনা শেষে সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নিশ্চিত করা হবে বলে পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার পেছনে কোনো প্রশাসনিক বা দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জড়িত আছেন কিনা, তা খতিয়ে দেখতে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কমিটিকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত জব্দকৃত চাল তদন্ত কমিটির হেফাজতে থাকবে।
অন্যদিকে, পাচারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের সচিব মোস্তফা কামাল শামীম। মুঠোফোনে তিনি জানান, তাদের ইউনিয়নের জন্য ১১৩ টন চাল বরাদ্দ ছিল, যার মধ্যে ১০৪ টন চাল ছাড়িয়ে আনা হয়েছে। তবে এখনও কার্ড কিংবা চাল বণ্টন শুরু হয়নি, যা আগামী বুধবার থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
পাচারের অভিযোগকে মিথ্যা দাবি করে তিনি বলেন, 'ফেসবুক ও নানা মাধ্যমে যে লেখালেখি হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমার বিরুদ্ধে আগে থেকেই চক্রান্ত করা হচ্ছে। আমি কোনো অনিয়মের সাথে জড়িত নই।'
এদিকে, জব্দকৃত চাল প্রশাসনের হেফাজতে রয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।