খাগড়াছড়িতে নামছে বন্যার পানি, ভেসে উঠছে ক্ষয়ক্ষতি

খাগড়াছড়িতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। মাইনী নদীর পানি কমে যাওয়ায় নিচু এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে। পানি কমার সাথে ভেসে উঠছে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আগাম আউশ ও আমনের বীজতলা।

 বন্যার পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে অন্তত ৮শ হেক্টর জমি, নষ্ট হয়ে গেছে সবজি ক্ষেত। ডুবে গেছে কবাখালি ও বোয়ালখালি ইউনিয়নের ৫ শতাধিক পুকুর। 

বন্যায় মেরুং বাজার ডুবে যাওয়ায় দেড় শতাধিক দোকানের মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। ঠিকমতো ত্রাণ পৌঁছাই খুশি আশ্রয় কেন্দ্রের বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষেরা। সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে ব্যবসায়ী,পুলিশ ও সেনাবাহিনী। 

মেরুং ইউনিয়নের চাষি শফিকুল ইসলাম জানান, ‘এক মাস আগে তিন কানি জমিতে আমনের চারা রোপণ করেছি। এখন তা পানির নীচে। চারদিন ধরে এ অবস্থা। পানি কমার কোন লক্ষণ নেই। প্রতি কানিতে ৪ হাজার টাকা করে তিন কানিতে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে হবে। সময়ও কম। কৃষি বিভাগ যদি সহায়তা করে ভালো হয়।’

মেরুং ইউনিয়নে আর্মি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় চাষি খোরশেদ আলম মাত্র ১৫ দিন আগে দুই একর জমিতে আমনের আবাদ করেছে।

তিনি বলেন , ‘সবগুলো ধানের চারা পানি নীচে । এসব চারার আর আশা ভরসা নেই। সব নষ্ট হয়ে গেছে।’
 
খাগড়াছড়িতে বন্যার পানি নামায় ভেসে উঠছে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি। ছবি: ইনডিপেনডেন্ট

দীঘিনালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘৩৭শ হেক্টর আমনের মধ্যে ৪৫৩ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫০ হেক্টর আউশের মধ্যে ২৮ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে।৩৭ হেক্টর বীজতলার মধ্যে ১৮ হেক্টরই পানিতে তলিয়ে গেছে। মোট ৫শ২৪ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতি হয়েছে। উপজেলায় ১৫শ কৃষক আক্রান্ত হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন , ‘১০ শতাংশের বেশি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হলে কৃষকদের আর্থিকভাবে প্রণোদনা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মেরুং,তারাবুনিয়া এলাকার কৃষকেরা।’
 
মেরুং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহমুদা বেগম লাকি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণসমাগ্রী পেয়েছি এবং যথাসময়ে তা মানুষের হাতে তুলে দিয়েছি। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বন্যা দুর্গতদের আমরা প্রতিবেলায় রান্না করে খাওয়াচ্ছি। এছাড়া কৃষক ও মৎসজীবীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারিভাবে তাদের প্রণোদনা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের বিভাগের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’