সাড়ে ৫৫ কেজি সোনা গায়েব কি এক দিনে

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের শুল্ক বিভাগের লকার থেকে চুরি হয়েছে ৫৫ দশমিক ৫১ কেজি সোনা। এরই মধ্যে এ ঘটনায় শুরু হয়েছে তোলপাড়। গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি, হয়েছে মামলা। তবে শনিবার এই চুরির ঘটনা জানাজানি হলেও সাংবাদিকদের জানানো হয় রোববার (৩ সেপ্টেম্বর)।

প্রশ্ন উঠেছে, এমন সংরক্ষিত জায়গা থেকে এমন চুরি কি একদিনে হয়েছে? নাকি বিভিন্ন সময় লকার থেকে অল্প অল্প করে সোনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

শুল্ক বিভাগ বলছে, খোয়া যাওয়া এসব সোনা গত তিন বছরে (২০২০-২০২৩) বিভিন্ন সময় জব্দ করা হয়েছিল। সাধারণত বিমানবন্দর থেকে চোরাচালানের সোনা জব্দ করা হলে তা তালিকা করে যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে পাঠানো হয়। সাধারণত দুই-এক দিনের মধ্যে তা বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানোর নিয়ম। তবে কেন এতদিন ধরে এই লকারে রাখা ছিল এসব সোনা?

এসব প্রশ্নেরও উত্তর মেলেনি। প্রশ্ন উঠেছে এই রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার (কেপিআই) নিরাপত্তা নিয়েও।  

বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, বিমানবন্দরের শুল্ক বিভাগের দুটি লকার। একটি নিচতলায় স্ক্যানারের পাশে। সেখানে তল্লাশির সময় তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ পণ্য রাখা হয়। জব্দ পণ্য বেশি দামি; অর্থাৎ সোনা হলে তা ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ শাখার পাশেই বিমানবন্দরের গুদামের ওই লকারে রাখা হয়। গুদামে থাকে ২৪ ঘণ্টা পাহারা। শনিবার সকালে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক কর্মী গুদামের লকার ভাঙা দেখতে পান। এর পর জানাজানি হয় লকার থেকে চুরি হয়েছে সাড়ে ৫৫ কেজি সোনা।

শুল্ক বিভাগ বলছে, যে গুদামের লকার থেকে সোনা চুরি হয়েছে, সেখানে চার শিফটে ২৪ ঘণ্টা পাহারা থাকে। এরপরও এই চুরির ঘটনায় হতবাক তাঁরাও।

গুদামে অটোমেশনের কাজ চলছে জানিয়ে ঢাকা কাস্টম হাউসের কমিশনার এ কে এম নুরুল হুদা আজাদ সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘এই ঘটনায় আমি লজ্জিত ও বিব্রত। একটি লকার থেকেই এসব সোনা চুরি হয়েছে। এসব সোনা ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে উদ্ধার হয়েছে।’

তবে কেন এতদিন ধরে এসব সোনা বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে জমা না দিয়ে এই লকারে রাখা হয়েছিল তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি নুরুল হুদা আজাদ।

গুদামের অটোমেশন কাজের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, সোনা চুরির এই ঘটনা আগেই ঘটেছে। অটোমেশনের সোনা গণনা করা হবে। গণনায় যাতে সোনা কম থাকার পরিমাণ ধরা না পড়ে, সে জন্যই লকার ভাঙার ঘটনা সাজানো হয়েছে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বিমানবন্দর থেকে সোনা চুরির একটি অভিযোগ পেয়েছি। এমন ঘটনায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।