অবরোধের আগে রাজধানীতে ৪ বাসে আগুন 

বিএনপি-জামায়াতের ডাকা পঞ্চম দফা অবরোধের আগে রাজধানীতে অন্তত চারটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এর মধ্যে মিরপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় ৩টি এবং মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় একটি বাসে আগুন দেয়া হয়।

ফায়ার সার্ভিস বলছে, রাত ৮টা ২৫ মিনিটে মিরপুর-১ এর বেড়িবাঁধ এলাকায় মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির দুটি বাসে আগুন দেওয়ার সংবাদ পাওয়া যায়। পরে কল্যাণপুর ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট আগুন নেভায়।

অন্যদিকে রাত ৯টা ১৮ মিনিটে মিরপুর–১০ নম্বরে একটি বিআরটিসি বাসে আগুন দেওয়া হয় এবং রাতে ১১টার দিকে বেড়িবাঁধের দ্বীপনগর এলাকায় আরেকটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।

মঙ্গলবার বিরতি দিয়ে আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার পঞ্চম দফায় অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। কর্মসূচি শুরুর আগেই রাজধানীতে তিনটি বাসে আগুন দেওয়া হলো।

এর আগে সকালে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছিল, গত ২৮ অক্টোবর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত বিএনপির ডাকা হরতাল-অবরোধে সারা দেশে ১৫৪টি আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সবচেয়ে বেশি আগুনের ঘটনা ঘটেছে ঢাকা মহানগরীতে।

ফায়ার সার্ভিস বলছে, এসব আগুনের বেশিরভাগই হয়েছে রাতে। গড়ে পোড়ানো হয়েছে ৫টি যাত্রীবাহী বাস।

ফায়ার সার্ভিসে পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, ২৮ অক্টোবর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১৫৪টি আগুনের সংবাদ পেয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এর মধ্যে ২৮ অক্টোবর ২৯টি, ২৯ অক্টোবর ১৯টি, ৩০ অক্টোবর একটি, ৩১ অক্টোবর ১১টি, ১ নভেম্বর ১৪টি, ২ নভেম্বর ৭টি, ৪ নভেম্বর ৬টি, ৫ নভেম্বর ১৩টি, ৬ নভেম্বর ১৩টি, ৭ নভেম্বর ২টি, ৮ নভেম্বর ৯টি, ৯ নভেম্বর ৭টি, ১০ নভেম্বর ২টি, ১১ নভেম্বর ৭টি, ১২ নভেম্বর ৭টি ও ১৩ নভেম্বর ৭টি আগুনের ঘটনা ঘটেছে।

এসব আগুনের ঘটনায় পুড়েছে ৯৪টি যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস ৩টি, প্রাইভেটকার ২টি, মোটরসাইকেল ৮টি, ট্রাক ১৩টি, কাভার্ডভ্যান ৮টি, অ্যাম্বুলেন্স একটি, পিকআপ ২টি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ২টি, নছিমন একটি, লেগুনা একটি, ফায়ার সার্ভিসের পানিবাহী গাড়ি একটি, পুলিশের গাড়ি একটি, বিএনপি অফিস ৫টি, আওয়ামী লীগ অফিস একটি, পুলিশ বক্স একটি, কাউন্সিলর অফিস একটি, বিদ্যুৎ অফিস দুটি, বাস কাউন্টার একটি ও দুটি শো-রুম।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা সিটিতে ৮২টি, ঢাকা বিভাগে ৩৪টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৪টি, রাজশাহী বিভাগে ৯টি, বরিশাল বিভাগে ৬টি, রংপুর বিভাগে ৬টি, খুলনা বিভাগে ২টি, ময়মনসিংহ বিভাগে একটি আগুনের ঘটনা ঘটে।

গত ২৮ অক্টোবর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা ও সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে রাজধানীর নয়াপল্টনে মহাসমাবেশ ডাকে বিএনপি। সমাবেশ শুরুর আগেই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় দলটির নেতা–কর্মীরা। এ সময় বিক্ষুব্ধ বিএনপি কর্মীরা কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবন ও জাজেস কমপ্লেক্সে হামলা চালায়। ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে রাজারবাগের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালেও।

বিএনপিকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে একজন পুলিশ সদস্য নিহত হন। আহত হন শতাধিক। এ সময় সমাবেশের সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর ওপরও হামলা করা হয়। ভাংচুর করা হয় গণমাধ্যমের কয়েকটি গাড়ি ও মোটরসাইকেল।

ওই দিন সন্ধ্যায় রোববার সারা দেশে সকাল–সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। হরতালের মধ্যেও বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতা–কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পরে ৩১ অক্টোবর থেকে টানা তিনদিনের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি। তাদের কর্মসূচির সাথে মিল রেখে জামায়াতে ইসলামীও তিনদিনের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে। এরপর থেকে বিভিন্ন মেয়াদে অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে আসছে দলটি। 

২৮ অক্টোবরের সহিংসতার ঘটনায় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। বাহিরে যারা আছেন তারাও প্রকাশ্যে আসছেন না। 

২৮ অক্টোবরের পর থেকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়টিও তালাবদ্ধ। হরতাল–অবরোধের কর্মসূচিগুলো আসছে ভার্চুয়াল মাধ্যমে।