গাজীপুরে রেললাইন কেটে ফেলায় দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আহতদের পরিবারও এ ঘটনায় হতভম্ব। এ ধরনের নাশকতা ঠেকাতে সরকারকে কঠোর হবার আহ্বান জানিয়েছে হতাহতের পরিবার।
শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গের সামনে মরদেহের অপেক্ষায় গাজীপুর ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত আসলামের চাচা আবুল কালাম। একদিকে স্বজন হারানোর শোক, অন্যদিকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারানোর হতাশা ঘিরে ধরেছে তাকে।
নিহত আসলামের চাচা আবুল কালাম বলেন, আসলামের পরিবারের আয়ের তেমন কেউ নেই। তিনি যা আয় করতেন তা দিয়েই তার পরিবার চলতো। আসলামের ঘরে এক তিন ছেলে -মেয়ে আছে। তার তেমন কিছুই নেই।
এদিকে, হাসপাতালের মেঝেতে কাঁদছেন কুমিল্লার হাটখোলা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী সুরভী আক্তার। ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার সময় মাথায় আঘাত পাওয়া সুরভীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুর্ঘটনার কারণে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তায় এই পরীক্ষার্থী।
সুরভী আক্তার বলেন, 'আমার ফেব্রুয়ারিতে পরীক্ষা, আমি জানি না পরীক্ষা দিতে পারবো কিনা, আমার মাথায় এখন অনেক ব্যাথা আছে।',
দুর্ঘটনায় আহতদের খোঁজে হাসপাতালে আসেন অনেক স্বজন। এমন নাশকতায় তারা হতবাক। আহতদের মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, 'চারজন রোগীকে আমরা ভর্তি করি। পরবর্তীতে একজনকে আমরা ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। আউটডরে ৭ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে দুইজনের পরিস্থিতি বিবেচনায় ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয় এবং পাঁচজনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এছারা এখানে চিকিৎসাধীন তিনজনের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত রয়েছে বলে জানান তিনি।'
রেল লাইন কেটে ফেলার মতো নাশকতা ঠেকাতে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান দুর্ঘটনায় ভুক্তোভোগীদের।